suicide

নিজস্ব সংবাদদাতা: এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বাঁশদ্রোণী থানা এলাকার গড়িয়া সারদা পার্কে। মৃতের নাম অনন্যা কোনার, বয়স ২৭। পুলিশ ও মৃতের বাপের বাড়ির লোকজনের সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ২ মার্চ বর্ধমানের বাসিন্দা অর্ণব সাইয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় অনন্যার। বছর ৩১-এর অর্ণব এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে চাকরি করেন। অনন্যাকে নিয়ে গড়িয়ার ৭ নম্বর সারদা পার্কের বাড়িতে থাকতেন তিনি। স্বামী-স্ত্রী ছাড়া আর কেউ থাকতেন না ওই ফ্ল্যাটে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ ওই ফ্ল্যাট থেকেই অনন্যার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। থবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে আসেন অনন্যার বাপের বাড়ির লোকজন। গলায় ওড়নার ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তখন বিছানায় পড়ে রয়েছে অনন্যার দেহ। ওড়নার কিছুটা অংশ ঝুলছে সিলিং ফ্যান থেকে। অনন্যাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

suicide
অনন্যা আর অর্ণব

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৩০ মিনিটে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে টিভি দেখেছেন। এক সঙ্গে শুতেও গিয়েছিলেন তাঁরা। এদিকে সকালে ঘুম থেকে উঠে অর্ণব দেখেন পাশে অনন্যা নেই। বাথরুমেও পাওয়া যায়নি তাঁকে। এর পর পাশের ঘরে খোঁজ করতে গিয়ে তিনি দেখেন দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। অনেক ধাক্কাধাক্কিতেও অনন্যার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সন্দেহ হওয়ায় দরজা ভাঙতে দেখেন- সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নার ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে অনন্যার দেহ। এর পর তিনি ওড়না কেটে দেহটি বিছানায় শুইয়ে রাখেন। পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।

এ দিকে অনন্যার বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, অর্ণব অনন্যাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতেন। চাকরি করার জন্য অনন্যাকে রীতিমতো চাপ দিতেন তিনি। এছাড়া বাপের বাড়ি থেকে মোটা অঙ্কের টাকাও নিয়ে আসতে বলতেন। পরিবারের লোকজন স্থানীয় বাসিন্দা মারফত জানতে পেরেছেন, অনন্যার সঙ্গে এসব নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হত অর্ণবের। বৃহস্পতিবার রাতেও তুমুল ঝগড়া হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। এর পর শুক্রবার সকালে উদ্ধার হয় অনন্যার ঝুলন্ত দেহ।

suicide
অনন্যার সুইসাইড নোট

ঘটনায় অনন্যার বাবা বীরেন্দ্রনাথ কোনার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অর্ণবের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে অর্ণবকে গ্রেফতার করেছে বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ। ফ্ল্যাট থেকে অনন্যার একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই নোটে বাবার জন্য লিখে গিয়েছেন অনন্যা- “বাবা, কষ্ট পেয়ো না। এছাড়া আমার আর কিছু করার ছিল না। রোজ রোজ অপমান আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমায় চাকরি করতে হবে যে করে হোক। আমার না কি কোনো যোগ্যতা নেই। মানিয়ে নিও। কষ্ট পেয়ো না। ভেবো, মেয়ের অনেক দূরে বিয়ে দিয়েছো- তোমার পাগলি।“

সুইসাইড নোটের দ্বিতীয় অংশটা মাকে লেখা। সেখানে লিখেছেন অনন্যা- “মা, কষ্ট পেয়ো না, কেঁদো না। জানো তো মা, ও আমায় বলেছে আমি চাকরি না পেলে আমার বাচ্চাও হবে না। এমনিতেও তো আমাদের কোনো ফিজিক্যাল রিলেশনশিপ প্রায় নেই। এটাই ভাল হল মা। তোমায় রোজ রোজ কাঁদতে হল না- তোমার মনা।“

বাঁশদ্রোণী থানার এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, অর্ণবের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ/৩০৪বি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার অর্ণবকে আলিপুর পুলিশ কোর্টে তোলা হবে। ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাকে রাখা হবে পুলিশ হেফাজতে। চাকরি করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ সত্যি কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ওই পুলিশ কর্তা আরও জানিয়েছেন, এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেহ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here