christmas

নিজস্ব সংবাদদাতা: উৎসবের আনন্দ যে থাকে মানুষের মনে, সেটা অস্বীকার করবেন না কেউই। তেমনই উৎসবের আনন্দে জৌলুস আনে একেকটা নির্দিষ্ট জায়গা। বড়োদিনের উদযাপনকে কেন্দ্র করে তাই যেন নতুন রূপ ধারণ করেছে কল্লোলিনী এই শহর। বো ব্যারাক থেকে পার্ক স্ট্রিট, নিকো পার্ক থেকে ইকো পার্ক, জাদুঘর থেকে চিড়িয়াখানা- ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হলেও সোমবার শহরের ভিড় চোখে পড়ার মতন!

christmas
সবার জন্য বড়ো দিন

অন্য বারের মতো এ বারেও বড়োদিনে পার্ক স্ট্রিট নিজেকে সাজিয়ে তুলেছে আলোর রূপটানে। তার তালে সঙ্গত করেছে উৎসাহী জনতার ভিড়। বছর শেষের উৎসবের শুরুটায় সকলেই আঁচ নিতে চান উদযাপনের উষ্ণতার। ইভ বা সন্ধ্যা পার করে বড়োদিনের সকালেও তাই পার্ক স্ট্রিট ভিড়ে জমজমাট।

christmas
চিড়িয়াখানার ভিড়

পার্ক স্ট্রিটে এ বছরে সবচেয়ে বেশি নজর যদিও কেড়ে নিচ্ছে প্রশাসনিক তরফে নিরাপত্তা রক্ষার উদ্যোগ। গোটা এলাকাকেই নিশ্ছিদ্র নজরদারির আওতায় রেখেছে সেনা বাহিনী। তাঁরাও যেন এই ভাবেই মিশে গিয়েছেন উৎসবের ভিড়ে। তাঁদের ঘিরে চলছে বড়ো বড়ো রঙিন চশমা, সান্তা ক্লজের টুপি, রেইন ডিয়ারের শিংওয়ালা ব্যান্ডেনার কেনাকাটি। নিজেকে তো বটেই, সঙ্গে সাধের পোষ্যকেও সাজিয়ে নিয়ে চলছে পায়চারি। পাশাপাশি, পথের মতোই ভিড় উপচে পড়ছে এই এলাকার প্রসিদ্ধ রেস্তোরাঁ এবং পানশালায়। একটু বিশ্রাম নিয়ে গত রাতের ক্লান্তি মুছে নতুন করে হুল্লোড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে নৈশনিলয়গুলোও।

এক দিকে যেমন পার্ক স্ট্রিট এলাকায় উৎসবের চেনা ছবিটাই ফিরে এসেছে নতুন উৎসাহ নিয়ে, অন্য দিকে তেমনই রেকর্ড সংখ্যক ভিড় হয়েছে চিড়িয়াখানায়, জাদুঘরে। বিশেষ করে এ বছরে দর্শনার্থী সমাগমে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে জাদুঘর। সোমবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র ঘণ্টাখানেকে প্রায় ৫ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে কলকাতা মিউজিয়াম সূত্রে জানা গিয়েছে।

christmas
আশ্চর্যের টানে

মিউজিয়ামে বাড়তি ভিড়ের জন্য কলকাতা পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই আঁটোসাটো করেছে। কেউই তাঁদের ব্যাগ নিয়ে মিউজিযামের ভিতর প্রবেশ করতে পারছেন না। মিউজিয়ামের গেটে স্ক্যানার দিয়ে বিশেষ চেকিং করা হচ্ছে। বসানো হয়েছে বাড়তি সিসিটিভি ক্যামেরা। এ ছাড়াও বাইরে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে শুধুই জাদুঘর, চিড়িয়াখানা নয়। বড়োদিনে কলকাতা সফরের এবং উপভোগের নয়া মাধ্যম হয়ে উঠেছে নিউ টাউনের ইকো পার্ক। বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের প্রতিমূর্তি ঘিরে সেখানে নেমেছে দর্শনার্থীর ঢল। প্রথমেই চোখে পড়ছে ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার। এর পর টাওয়ার ব্রিজ। একটু এগোলেই ইটালির কলোসিয়াম। এর পরে রয়েছে চিনের প্রচীর, আগ্রার তাজমহল। তাজমহলের পাশের আছে যমুনা নদী। এছাড়াও জর্ডনের শিল্পকলা, চিলির ইস্টার্ন আইল্যান্ডও টেনে নিচ্ছে মনোযোগ। আশ্চর্য কী, টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকতে সময় লেগে যাচ্ছে প্রায় ঘণ্টাদুয়েক!

christmas
শীতের গরম খবর

অবশ্য শুধুই হুল্লোড় নয়। বড়োদিন যাতে শহরের অসহায় মানুষগুলোর পক্ষেও সুখের কারণ হয়, তার জন্য উত্তর কলকাতার একটি ক্লাবের উদ্যোগে বিতরণ করা হয়েছে শীতবস্ত্র। ধনী, নির্ধন- সবার জন্যই খুশির আমেজে বড়োদিনকে ভরিয়ে তুলতে বদ্ধপরিকর এই শহর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here