mother's day

শৌভিক পাল

আজ বাদে কাল ১৩ মে, মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার। প্রথা অনুযায়ী পালিত হবে মাতৃ দিবস। জীবনের হাজার কাজের ফাঁকে একবার মাকে মনে করে নেওয়ার দিন। কোনো এক কবি এ কথা বলে একবার মুচকি হেসেছিলেন। কিন্তু আজকের সমাজব্যাবস্থায় ব্যস্ততায় বিঘ্নিত জীবনে এই কথা আকাশে চন্দ্র-সূর্যের মতোই সত্যি। মা শব্দটি যে ধীরে ধীরে জীবন থেকে মুছে যেতে বসেছে। তাই বছরে অন্তত এক বার এক মনে মা-কে স্মরণ করার দিন। সেই মাতৃদিবসের প্রাক্কালে এমনই এক স্মৃতিচারণা।

এক বৃদ্ধাশ্রমের চার দেওয়ালে বন্দি নীহার মজুমদার। ভদ্রমহিলাকে এই প্রতিবেদকই মনে করিয়ে দিল মাতৃদিবসের কথা। চোখের জলটা মুছে ফেলে আমার দিকে তিনি একবার তাকালেন চুপ করে। স্বামী গত হওয়ার পর ৫ বছর কেটে গিয়েছে। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বহু দিন। ছেলের ট্রান্সফারের চাকরি, তাই কাছে মায়ের কাছে থাকা হয় না। মাসিক পেনসনের টাকায় বৃদ্ধাশ্রমে একলা জীবন কাটছে তার। ছেলে কর্মব্যস্ত। ব্যস্ততার ফাঁকে মায়ের কথা মাঝেমধ্যে মনে পড়লে ফোন করে। তখন আনন্দে বুকটা ভরে যায়। কিন্তু তার পর? নিজেকে বোঝা মনে হয় নীহার মজুমদারের।

mothers day
চিত্রা মুখোপাধ্যায়

নীহার মজুমদারের কথা শুনে পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন অন্য এক ভদ্রমহিলা। নাম জিজ্ঞাসা করতে বললেন চিত্রা মুখোপাধ্যায়। তার জীবনের কাহিনিটা আবার একটু আলাদা রকমের। তিনি স্বামীহারা। অকালে মারা গিয়েছে ছেলেও। তার মৃত্যুর পর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছেন চিত্রাদেবী। বার্ধক্য ভাতা আর বিধবা ভাতার টাকায় এবং জমানো কিছু অর্থে দিন গুজরান এই বৃদ্ধাশ্রমে। এখন বেঁচে থাকা ছেলের ছবি আঁকড়ে।

বছর ঘুরবে। মাতৃদিবস আসবে, যাবে। সন্তান নয়, তাদের স্মৃতিগুলোই হয়তো এ ভাবে আঁকড়ে জড়িয়ে শেষ জীবনটা কাটাতে হবে মায়েদের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here