kolkata killing sister

কলকাতা : ছোটো বোনকে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠল দিদির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বেহালা থানা এলাকায়। ১৪৩বি ব্রজেন মুখোপাধ্যায় রোডে। মৃতার নাম কাকলি দাস। বয়স ৪০। ঘটনা জানাজানি হতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলালাবাসী। বেহালা থানায় খবর দেন তাঁরা। মৃতদেহ ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। আহত মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রজেন মুখোপাধ্যায় রোডের বাসিন্দা বীণা দাস। স্বামী গোপেন দাস। ১০ বছর আগে গোপেনবাবুর মৃত্যু হয়। তিনি কলকাতা পুরসভায় উচ্চ পদে চাকরি করতেন। এখন ১০ হাজার টাকা করে পেনশন পান বীণদেবী।  তাঁদেরই দুই মেয়ে কেয়া ও কাকলি। বড়ো মেয়ে কেয়া বিবাহিতা। কিন্তু গত চার বছর ধরে মা-বোনের কাছেই স্বামী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন কেয়া। আর ছোটো মেয়ে কাকলি জন্ম থেকেই বোবা ও কালা।

কেয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাবার বাড়ির পুরো সম্পত্তি একা গ্রাস করার লোভে মা ও বোনের উপর নানাভাবে অত্যাচার করতেন কেয়া। তাঁদের ভালো করে খেতে দিতেন না। এমনকি দিনের পর দিন মারধরও করতেন। শেষ কয়েক দিন অসুস্থ হয়ে বাড়িতেই পড়েছিলেন কাকলি। তাঁর চিকিৎসাও করাননি কেয়া। তারপরই মৃত্যু হয় কাকলির।

মঙ্গলবার রাতে কাকলির মারা যাওয়ার খবর কাউকেই জানতে দেননি কেয়া। এমনকি রাতের অন্ধকারে চুপিসারেই তাঁর শেষকৃত্যও সেরে ফেলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো ভাবে জানতে পেরে যান স্থানীয়রা। তাঁরা সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন। মৃতদেহ আটকে রাখেন। পুলিশে খবর দেন।

এ দিন বীণাদেবীর গায়েও লাল দাগ দেখে তাঁকেও মারধর করা হয়েছে বলে সন্দেহ করেন বাসিন্দারা। বীণাদেবী বলেন, ‘কেয়ারা আমাকেও মারধর করত। পুলিশকে বার বার জানিয়েও কোনো সাহায্য পাইনি।’

kolkata-killing-sister2
প্রতিবেশীদের বিক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত

বীণাদেবীর ভাই আশুতোষ চট্যোপাধ্যায় বলেন, সম্পত্তির লোভেই ছোটো বোন কাকলিকে মেরে ফেলেছে কেয়া। একই অভিযোগ প্রতিবেশীদেরও।

অন্যদিকে কেয়ার দাবি, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর ছোটো মেয়ে ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছে। তার পর থেকে তাঁর মাথার ঠিক ছিল না। সেই সময়ই মা, বোনকে মেরেছিলেন। পাশাপাশি তিনি এ-ও দাবি করেন, ছোটো বোন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। সেই সবাইকে মারত।

অবশ্য পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকেই সবটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

(ছবিতে বাঁদিকে মৃতা ও ডান দিকে মা)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here