সানি চক্রবর্তী:

খারাপ সময়টা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বার্সেলোনার। মাঠ বদলাচ্ছে কিন্তু ভাগ্যে খুব একটা পরিবর্তন আসছে না লুই এনরিকের। লা লিগায় মালাগার কাছে ০-২ ব্যবধানে হেরে আসার পরে এ বার আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। তুরিনে জুভেন্তাসের ঘরের মাঠে এ বারে মেসি-নেইমার-সুয়ারেজদের মাথা হেঁট ০-৩ ব্যবধানে হেরে।

ওল্ড লেডি অফ তুরিনে এদিন গ্র্যান্ড ওল্ড ম্যান ও নতুন মেসির কাছে আত্মসর্মপণ করলেন বার্সা। প্রথমার্ধের শুরুতেই আর্জেন্তিনার তরুণ তুর্কি পাওলো ডিবালার দু’টি বিশ্বমানের গোলে পিছিয়ে পড়ে কাতালান ক্লাবটি। মেসির দেশের এই ফুটবলার বাঁ পায়ে যে দু’টি বিশ্বমানের গোল করলেন, তাতে কার্যত মনে করিয়ে দিলেন তরুণ এলএমটেনকে। আর বাকি সময়টা জুভেন্তাসের গোলের নীচে কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন বহু যুদ্ধের নায়ক জিয়ানলুইজি বুঁফো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাসচেরানোকে টপকে চেলেনির হেডে করা তৃতীয় গোলের পরেও যদিও স্বস্তিতে ছিল না সিরিয়া-র দলটি। কারণ, বিপক্ষের নাম যে বার্সেলোনা।

কয়েকদিন আগেই প্যারিস সাঁ জাঁর ঘরের মাঠে প্রথম লেগে ০-৪ ব্যবধানে হেরে এসেছিল তারা। সেখান থেকে ফিরতি লেগে ৬-১ ব্যবধানে জিতে সর্বকালের সেরা প্রত্যাবর্তনও ঘটিয়েছে তারা। তাই ০-৩ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগ হারলেও বার্সা কার্যত ছিটকে গেল, বলার দুঃসাহস হয়তো এখনই দেখাবেন না খুব বেশি কেউ। কিন্তু জুভেন্তাসের মতো শক্তিশালী রক্ষণাত্মক দলের বিরুদ্ধে ৪ গোলে জেতা যে এক প্রকার অসাধ্যসাধন তা-ও বলতেই হচ্ছে। তা ছাড়া বারবার, একই ধরনের প্রত্যাবর্তনের জন্য যে ধরনের ঝাঁঝ প্রয়োজন হয় তা যেন কোথাও একটা গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না বার্সা শিবিরে। মাঝে মধ্যেই ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট এনরিকের দলের খেলায়। এ দিন তারা খারাপ ফুটবলের নমুনা পেশ করেছে, এমনটাও আবার বলা যায় না। বরং বলা ভালো, জুভেন্তাস তাদের টেক্কা দিয়েছেন প্রায় প্রত্যেক ক্ষেত্রে।

বার্সা শিবিরে খেলেন আর্জেন্তিনার জাতীয় দলের সবথেকে সফল দুই ফুটবলার মেসি ও ম্যাসচেরানো। আর জুভেন্তাসের স্ট্রাইকিং লাইনে ভরসা আর্জেন্তিনার নতুন মেসি ডিবালা ও হিগুয়েন। এ দিন খেলার ৭ ও ২২ মিনিটে দু’টি গোল করেন তিনি। প্রথমটায় কুয়ার্দাদোর পাস ধরে চকিত টার্নে রাখা প্লেসমেন্টে। দ্বিতীয়টা মান্ডুকিচের পাস থেকে ঠিক পেনাল্টি বক্সের মাথা থেকে। দুটি গোলেই ডিবালার বাঁ পা ছাড়াও মিল ছিল আরও একটি ক্ষেত্রে। এনরিকের তিন ডিফেন্ডারের তত্ত্বকে ফালাফালা করে উইং দিয়ে আক্রমণ তুলে নিয়ে গিয়ে ভেতরে ঢুকে গোল তুলে নেওয়া। আর বার্সা মাঝমাঠে সার্জিও বুস্কেটসের অভাব টের পাওয়া গেল দারুণভাবে। বাকি কাজটা করে তাঁদের সাপ্লাই লাইন কেটে দিয়েছিলেন খেদেইরা, জানিচরা।

ডিবালার প্রথম গোলের পরে ইনিয়েস্তার প্রয়াস প্রায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে বাঁ হাতে শেভ করেন বুঁফো। সেই গোলটি বার্সা পেয়ে গেলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতেই পারত। কিন্তু হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যে দ্বিতীয় গোল তুলে নেন জুভেন্তাস। আর দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে কর্ণার থেকে চেলিনির হেডে ঘরের মাঠে টানা ৪৬ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডটা গড়ে ফেলে ম্যাক্সিমিলিয়ানো অলেগ্রির দল।

অন্য দিকে, দুর্ঘটনার জেরে ২৪ ঘণ্টা পিছিয়ে গেছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড-মোনাকোর ম্যাচ। সিগন্যাল ইডুনা পার্কে আসার পথে ডর্টমুন্ডের টিম বাসের পাশে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। বড়োসড়ো কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও বাসের কাঁচ ভেঙে যায়। আঘাতে বাঁ হাত কেটে যায় মার্ক বাত্রার। হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় তাঁকে। যদিও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন চিন্তার কিছু নেই। হঠাৎ এই ধরনের বিস্ফোরণ কীভাবে হল বা কারা ঘটাল তা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য এখনও জানায়নি জার্মান পুলিশ। তবে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মোনাকো দলের সঙ্গে আলোচনার পরে এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয় ম্যাচ।

এ দিনই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখ-রিয়াল মাদ্রিদ মহারণও রয়েছে। অপর কোয়ার্টার ফাইনালটি অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ বনাম লেস্টার সিটির।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here