নয়াদিল্লি: এখন থেকে সাধু-সন্ন্যাসীরা পাসপোর্টে তাদের বাবা-মায়ের বদলে, আধ্যাত্মিক গুরুর নাম দিতে পারবেন। পাসপোর্টের আবেদনে জন্ম তারিখের প্রমাণপত্র দেওয়াও আর বাধ্যতামূলক থাকছে না। তার জায়গায় আধার কার্ডেই কাজ চলবে। শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রক নতুন যে পাসপোর্ট বিধি ঘোষণা করেছে, তাতে রয়েছে এমনই সব নতুন বিষয়। বিদেশ দফতরের প্রতিমন্ত্রী ভিকে সিং জানিয়েছেন, নতুন বিধিতে পাসপোর্টের নিয়মকানুনকে এক সূত্রে বাঁধার চেষ্টা করা হয়েছে, গোটা ব্যবস্থাটিকে উদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।


জন্ম তারিখের প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার যে বিধি এতদিন ছিল, তার বদলে ঠিক করা হয়েছে, নীচের নথিগুলির যেকোনো একটি দিয়েই পাসপোর্টের আবেদন করা যাবে। নথিগুলি হল- বদলির সার্টিফিকেট, স্কুল ছাড়ার সার্টিফিকেট, দশম শ্রেণিতে পাস করার সার্টিফিকেট, প্যান কার্ড, আধার কার্ড, ই-আধার এবং জন্ম তারিখের প্রমাণপত্র, সার্ভিস রেকর্ডের নির্যাসের নথি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার পরিচয়পত্র অথবা এলআইসি পলিসি বন্ড।


১৯৬৯ সালের জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তিকরণ আইন অনুসারে ভারতের যে সব দফতর জন্মের সার্টিফিকেট দিতে পারে, তাদের দেওয়া সার্টিফিকেট, জন্মের প্রমাণপত্র হিসেবে আবেদনে গৃহীত হবে।

এতদিন ১৯৮৯ সালের ২৬ জানুয়ারির পর যারা জন্মেছেন, তাদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদনে জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসেবে জন্ম সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল।

সাধুদের দাবি মেনে সরকার পাসপোর্টের আবেদনে বাবা-মায়ের নামের জায়গায়, তাদের আধ্যাত্মিক গুরুর নাম দেওয়ার সুযোগ করে দিল। সঙ্গে ভাটার কার্ড, প্যান কার্ড, আধার ইত্যাদির মতো যেকোনো একটি নথি তাদের জমা দিতে হবে।

passport

যে সব সরকারি কর্মচারী পাসপোর্টের আবেদন করার জন্য তাদের ঊর্ধ্বতনের কাজ থেকে ‘নো-অবজেকশন’ সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না, তাদের বিষয়টিও সহজ করে দেওয়া হল নতুন বিধিতে। এখন থেকে পাসপোর্টের আবেদনের সঙ্গে একটি সাদা কাগজে লিখে তাদের জানিয়ে দিতে হবে যে, পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার বিষয়টি তার অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তারা আগেই জানিয়েছেন। তাহলেই তারা পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।


একক বাবা/মায়ের সন্তানদের জন্যও শিথিল হল বিধি। আবেদনপত্রে বাবা ও মায়ের নাম লেখার জায়গায় যে কোনো একজনের নাম দিলেই চলবে। বিবাহিতদের জন্য জন্য বিয়ের সার্টিফিকেট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকছে না। বিবাহবিচ্ছিন্নদের ক্ষেত্রে প্রাক্তন স্বামী/স্ত্রীর নাম দেওয়াও বাধ্যতামূলক থাকছে না। থাকছে না ডিভোর্স সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার প্রয়োজনও। 


এতদিন পাসপোর্টের আবেদনে যে সব নথির প্রত্যয়িত নকল জমা দিতে হত, এখন থেকে সেগুলি আর প্রত্যয়িত করার প্রয়োজন হবে না, শুধুমাত্র নথির নকলটি জমা দিলেই হবে। আবেদনকারী সাদা কাগজে সেগুলির সত্যতা সম্পর্কে স্বীকারোক্তি দিলেই কাজ চলবে।

বিবাহবন্ধনের বাইরে যে সব শিশুর জন্ম হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও শুধুমাত্র সাদা কাগজে স্বীকারোক্তিমূলক আবেদনেই কাজ হবে। দেশের মধ্যে দত্তক নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে দত্তকের আইনি নথি জমা দেওয়ার দরকার পড়বে না।

সারোগেট শিশুদের ব্যাপারে এদিনের নতুন নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।  চিফ পাসপোর্ট অফিসার অরুণ কে চ্যাটার্জি বলেন, লোকসভায় এই সংক্রান্ত একটি বিল আলোচনায় রয়েছে, সেই বিলটি পাস না হলে, এই আইনে কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

‘তৎকাল’-এর মতো পাসপোর্ট পরিষেবাকে ক্যাশলেস করা যায় কি না, সে প্রসঙ্গে অরুণবাবু বলেন, এ বিষয়ে এসবিআই-এর সঙ্গে মন্ত্রকের চুক্তি হয়েছে, দিন  পনেরোর মধ্যেই এই ধরনের পরিষেবা সম্পূর্ণ ক্যাশলেস হয়ে যাবে।

ভারতে এই মুহূর্তে ৩৮টি পাসপোর্ট অফিস, ৭টি পাসপোর্ট কেন্দ্র এবং ৮৯টি পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র রয়েছে। প্রধান পোস্ট অফিসগুলিকে পাসপোর্ট দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে মন্ত্রক একটি পাইলট প্রোজেক্টের কথা ভাবছে বলে এদিন জানান বিদেশ দফতরের প্রতিমন্ত্রী ভিকে সিং।

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here