কলকাতা : সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সাফ বললেন, বর্তমানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলছে। শুক্রবার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে এসে এই মত ব্যক্ত করলেন তিনি।

রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হায়দরাবাদ, জেএনইউ প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কখনোই অভিপ্রেত নয়। মনমোহন বলেন, ছাত্রছাত্রীদের কথা বলার অধিকার অবশ্যই থাকা উচিত। পড়ুয়ারা যেন তাঁদের মতো করে তাঁদের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করতে পারেন, নিজেদের কাজ করতে পারেন, সেটা দেখা দরকার।

নাম না করে কেন্দ্রের একাধিক বিষয়ে সরব হন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ নেমে আসছে।  এই ব্যাপারটা রাষ্ট্রের প্রতি ক্ষতিকারক। সব রকম ভেদাভেদ দূর করার বার্তা দেন মনমোহন। নতুন ভাবে দেশ গড়ার মূল কারিগর যে ছাত্রছাত্রীরাই, এই বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেন। তিনি বলেন, কুসংস্কারকে সরিয়ে সম্প্রীতিই ভারতের বৈশিষ্ট্য, সম্প্রীতিতে ভারতের স্থান বিশ্বে উজ্জল। তিনি তাঁর বক্তব্যে বার বার দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মনমোহন মনে করিয়ে দেন যে দেশে ঐক্যের ছবিই বর্তমানে গড়ে তোলা উচিত।পাশাপাশি প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর গলায়।

এ দিন উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, আমাদের দেশে বুদ্ধিমত্তার অভাব নেই। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের ওপর নজর থাকা দরকার। শিক্ষায় ভারতের হাল যে কেমন তা একটি তথ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন। তিনি জানান বিশ্বে ৭৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তার মধ্যে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রথম ২০০টির তালিকায় ভারতবর্ষের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ছিল না। ২০১৫ সালে প্রথম তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ২০০টির মধ্যে স্থান পেয়েছে।

প্রণববাবু বলেন, ১৯৩০ সালের পর থেকে ভারতবর্ষের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা করে কেউ নোবেল পাননি। চন্দ্রশেখর, হরগোবিন্দ খোরানা, অমর্ত্য সেনের মতো ব্যক্তি, যাঁরা নোবেল পেয়েছেন তাঁরা সবাই বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন।

তবে প্রেসিডেন্সির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে অনেক কিছু জড়িয়ে আছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকার যে সাহায্য করেছে তার প্রশংসা করেছেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here