নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : নতুন মহকুমা পেল পাহাড়। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক ভাবে আরও কিছুটা এগিয়ে গেল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

বৃহস্পতিবার সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মিরিক-কে মহকুমা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আলে গ্রাউন্ড তখন কানায় কানায় পূর্ণ। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী-সহ তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা। মাইক হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা “আজ মিরিকের শুভ জন্মদিন”। হাতাতালিতে ফেটে পড়ল গোটা ময়দান। আকাশ জুড়ে আতসবাজির রোশনাইয়ে তখন অকাল দেওয়ালি মিরিকের পাহাড়ে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এর পর জমি সার্ভে করে এখানকার বাসিন্দাদের জমি লিজ এবং পাট্টা দেবে সরকার। তবে মিরিকের অনুয়ন্নন নিয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে এক হাত নেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, যারা এখানে ক্ষমতায় রয়েছে তারা মিরিকের জন্য কোনো উন্নয়নের কাজ করেনি। মিরিক লেক সংস্কারের পাশাপাশি রাস্তাঘাট, কটেজগুলি সংস্কার করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, যারা ক্ষমতায় রয়েছে তারা নিজেরাও কাজ করবে না, রাজ্য সরকারকেও কাজ করতে দেবে না।

আগামী মে মাসেই পাহাড়ে চার পুরসভার নির্বাচন। কিছু দিন আগেই পাহাড়ে এসে কালিম্পংকে জেলা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। আজ মিরিককে মহকুমা ঘোষণা এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রতি পাহাড়বাসীর মন জয় করবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

পর্যটকদের কাছে চা-বাগিচা ও কমলালেবুর বাগান ঘেরা মিরিক বরাবরই আকর্ষণীয়। শিলিগুড়ি থেকে ৫২ কিলোমিটার দূরে মিরিক লেক অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। এখানকার প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দার আয়ের অন্যতম উৎস পর্যটন, কমলালেবু উৎপাদন এবং চা-বাগিচা। আগামী মে মাসে পাহাড়ে পুরনির্বাচন এবং ২০১৮-তে পঞ্চায়েত নির্বাচনে মোর্চা এবং জোটসঙ্গী বিজেপিকে ধরাশায়ী করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজকের পদক্ষেপ নতুন লড়াইয়ের সূচনা করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন