মোহনবাগান-৩ (বলবন্ত ২, কাতসুমি ১-পেনাল্টি)

 ডিএসকে শিবাজিয়ানস-১  (মিলন সিং)           

কলকাতা: গত বারের আই লিগে অ্যাওয়ে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ৩-২ এগিয়ে থেকেও পয়েন্ট খোয়াতে হয়েছিল। এবারেও অ্যাওয়ে ম্যাচে আটকে দিয়েছে শিবাজিয়ানরা। তার ওপর পরপর দুটো ম্যাচ ড্র করে বেশি কিছুটা চাপে সবুজমেরুন শিবির। সনির চোট। দলটাও ছন্দে নেই। ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।  সব মিলিয়ে বহু প্রতিবন্ধকতা নিয়ে রবীন্দ্র সরোবরে নেমেছিল সঞ্জয় সেনের ছেলেরা। খেলার শুরু থেকেও যেন গত মুম্বই এফসি ম্যাচের মোহনবাগান। জঘন্য ফুটবল। সনি নিষ্প্রভ। ডাফি, কাতসুমি কিছুটা চেষ্টা করছেন, যেমন করেন। ডিফেন্সে কোনো বোঝাপড়া নেই। ১৯ মিনিটের মাথায় অনেকটা ফাঁকা জমি আর দেবজিতকে একা পেয়েও গোল করতে পারলেন না সুমিত পাসি। আবার পয়েন্ট নষ্টের ভয় যখন সবুজ মেরুন সমর্থকদের ঘাড়ে চেপে বসছে তখনই ৩৩ মিনিটে ডিফেন্সের শ্লথতার সুযোগ নিয়ে চমৎকার গোল করে গেলেন শিবাজিয়ানসের মিলন সিং। পয়েন্ট খোয়ানোর ভয় এবার পাল্টে গেল অপরাজিত তকমা খোয়ানোর ভয়ে। কারণ মোহনাবাগনের খেলায় তখনও পরিবর্তনের কোনো চিহ্ন নেই।

এরকম সময়েই শাহনাজ সিং-কে তুলে সঞ্জয় সেন মাঠে নামালেন চনমনে প্রবীর দাসকে। খেলায় কিছুটা গতি এল। ৪২ মিনিটের মাথায় ওভারল্যাপে উঠে আসে প্রীতম কোটালের চমৎকার ক্রস ফিস্ট করলেন সুব্রত পাল। হেডে জালে বল ঢোকালেন বলবন্ত সিং। মোহনবাগানের চেহারা পাল্টে গেল কিছুটা। দু’মিনিট বাদেই সেই প্রীতম কোটাল আবার বল রাখলেন বক্সে। হাফভলিতে দুরন্ত গোল করলেন বলবন্ত। স্কোর পাল্টে গেল। বাগানও ঝলমল করতে শুরু করল।

pritam-kotal

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই চেনা সনি। তাঁর পায়ে বল গেলেই সমর্থকদের উল্লাস। মোহন আক্রমণের ঝড় বারবার ঝাপ্টা দিচ্ছে শিবাজিয়ানসের ডিফেন্সে। ৪৭ মিনিটে সনির ক্রসে মাথা ছোঁয়ানের লোক পাওয়া গেল না। ৫২ মিনিটে গোলকিপারকে একা পেয়েও সহজ সুযোগ নষ্ট করলেন ডাফি। ফিরতি বলে শট নিতে পারলেন না প্রবীর দাস। হ্যাটট্রিকের গন্ধ পেয়ে টেনশনে সুযোগ নষ্ট করতে থাকলেন বলবন্ত।

এরপর খেলা কিছুটা স্লো হয়ে গেল। পিছিয়ে পড়া সত্ত্বেও প্রথমার্ধের ফর্মে ফিরতে পারলেন না জুয়ান কোয়ারো, মিলন, সুমিত পাসিরা। ৮৩ মিনিটে তুলে নিতে হল বলবন্তকে। নামলেন জেজে। আর ৮৭ মিনিটে সেই জেজে-কেই বক্সের মধ্যে ফাউল। বাগান পেনাল্টি পেল। গোল করলেন কাতসুমি। ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে গোলের তফাৎ কমলেও, আই লিগের অর্ধেক হয়ে যাওয়ার পর ১ নম্বরেই থাকল লালহলুদ। ২ নম্বরে সনি-কাতসুমিরা। দু’দলেরই পয়েন্ট ২১। 

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন