মোহনবাগান-৩ (কাতসুমি ২, ডাফি)   বেঙ্গালুরু এফসি-০

কলকাতা: আই লিগে বিরতির আগের শেষ ম্যাচগুলো দেখে বোঝাই যাচ্ছিল ছন্দ কেটে গেছে সঞ্জয় সেনের ছেলেদের। প্রথমার্ধটা কিছুটা তেড়েফুড়ে খেলার পর দ্বিতীয়ার্ধে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল দলটা। কয়েকবার গোল করে এগিয়েও ম্যাচ ড্র কিংবা পরাজয়। আই লিগের সোনালি স্বপ্নটা যেন হারিয়েই যেতে বসেছিল সোনি, কাতসুমি, জেজে-দের খেলা থেকে।

শনিবারের রবীন্দ্র সরোবরে সেই বাগানেই ফুল ফুটল। ফোটালেন সেই চেনা নামগুলোই। কাতসুমি, সোনি, ডাফি, শেহনাজ, ডু। তালিকার বিষয় নয়। গোটা দলটাই যেন পাল্টে গেছে। সামনেই নতুন মরশুমের দলবদল, চুক্তি সই-এর হাতছানি। কলকাতার ফুটবলে এ তো চিরকালের ঐতিহ্য।

তবু খারাপ কথা আজ থাক। আই লিগ জিতে গেলে, জিততে হবে বাকি ৬টা ম্যাচই। সেটা মনে রেখেই যেন ম্যাচের শুরু থেকেই প্রাধান্য রেখে খেললেন সঞ্জয় সেনের ছেলেরা। ৫ম্নিটের মাথায় সহজ হেডার পেয়েও বাইরে তেকাঠিতে রাখেন ডাফি। সেই পাপ অবশ্য স্খালন করে নেন ম্যাচের ২৫ মিনিটে। বাঁদিক থেকে আসা সোনির চমৎকার সেন্টারে ডিফেন্ডারদের ভিড় থেকে গোল করে। সেটা অবশ্য বাগানের ২-০ এগিয়ে যাওয়ার গল্প। 

তার আগে ম্যাচের ১২ মিনিটে দলকে ১-০ এগিয়ে দেন অধিনায়ক কাতসুমি। সেটা অবশ্য ছিল বেঙ্গালুরু গোলকিপারের ব্যর্থতা। কিন্তু ম্যাচের ৫২ মিনিটে যে গোলটা করলেন, সেটা ম্যাচের সেরা তো বটেই। এবারের আই লিগের সেরা গোলের তালিকাতেও থাকবে। নিজেদের অর্ধে বল ধরে বাঁ দিক ধরে স্বপ্নের দৌড় সোনি নর্দের। ডান দিকে কোনাকুনি ঠিকানা লেখা পাস হিরো অফ দ্য ম্যাচ কাতসুমিকে। এক জন ডিফেন্ডারকে বাঁ সঙ্গে নিয়েগোল কিপারের বাঁদিক দিয়ে জালে জড়ালেন জাপানি।

দুটো ভালো সুযোগ পেয়েছিল  বেঙ্গালুরুও। ৬৬ ও ৭৭ মিনিটে। একবার গোল লাইন সেভ করলেনশেহনাজ। অন্যবার দারুণ সেভ দেবজিতের।

১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট হয়ে গেল সবুজমেরুনের। এখনও তাঁরা লিগ টেবিলের ৩ নম্বরে। তবে গোটা দলটাকে ছন্দে দেখাল আজ। দারুণ খেললেন সবুজমেরুন জনতার নয়নমণি সোনিও। আই লিগের স্বপ্ন ফের বাগান তাঁবুতে।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here