মোহনবাগান ২(সোনি, আজহারউদ্দিন) –  ইস্টবেঙ্গল-১(রাওলিন)

 শিলিগুড়ি: ম্যাচ শেষে এক কিশোর মাঠে ঢুকে সোনিকে জড়িয়ে, পায়ে পড়ে, ছবি তুলে জার্সিটা নিয়ে তবে শান্ত হলেন। ডার্বি জয়ের চিরকালীন আবেগের টুকরো আরও একবার ধরা পড়ল কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে। হবে না-ই বা কেন, ডার্বিতে সোনি তেমন কিছু করে উঠতে পারেন না, এই সমালোচনার জবাব তো এদিন দিয়েই দিলেন হাইতির স্ট্রাইকার। বারবার ফাউলের মুখে পড়ে গোলের মুখে পাস বাড়ানোয় হয়তো অন্যদিনের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন হাইতির স্ট্রাইকার। কিন্তু মাঠ জুড়ে পরিশ্রম এবং ৩৬ মিনিটে বক্সের বাঁ দিকে গজ চারেক দূর থেকে তাঁর বিশ্বমানের ফ্রিকিকে গোলটা তো মোহন জনতার বুকে করে রাখারই জিনিস। হিরো অফ দ্য ম্যাচ-ও তাঁকে ছাড়া কাউকে বাছা সম্ভব ছিল না।

বেঙ্গালুরুর কাছে ১-০ গোলে হেরে এক নম্বরে থাকা (১৫ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট) আইজল এফসি কলকাতার প্রধানদের আই লিগ ঘরে তোলার যে সুযোগ করে দিয়েছে, সেটা কাজে লাগানোর ব্যাপারে বাজি রাখতেই হচ্ছে পালতোলা নৌকোর ওপর। 

ওই গোলের মিনিট সাতেক পরেই আরও একটা বিশ্বমানের গোল। জুনিয়র কোটায় দলে সুযোগ পাওয়া আজহারউদ্দিন মল্লিক নজর কেড়েছিলেন আগের বেঙ্গালুরু ম্যাচেই। এদিনও ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি ব্যাতিব্যস্ত করছিলেন ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে। কিন্তু ৪৩ মিনিটের মাথায় তিনি যেটা করলেন, সেটা সোজা কথায় বিশ্বমানের গোল। গোলকিপার রেহনেশকে এগিয়ে আসতে দেখে বক্সের ডান দিকে বেশ কিছুটা দূর থেকে গোলে শট করলেন, এবং বাঁ দিকের বারে লেগে তা গোলে ঢুকল। ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের দুর্বলতাকে কিছুটা দায়ী করা গেলেও আজহার যে অনেক দূর যাবেন, সে বিষয়ে সন্দেহ থাকার কথা নয়।

বড়ো ম্যাচের চাপ কিংবা অন্য যে কোনো কারণেই হোক, আজ কিছুটা নিষ্প্রভ ছিলেন কাতসুমি-ডাফি। গোটা দুয়েক গোল পেতে পারতেন বলবন্ত। কিন্তু সুযোগ নষ্ট করেছেন। খেলা শেষ হওয়ার ১ মিনিট আগে, সবুজমেরুন ডিফেন্সের দুর্বলতায় চমৎকার গোল করে ব্যবধান কমিয়েছেন রাওলিন বোর্জেস। কিন্তু গোটা খেলাতেই লালহলুদ ডিফেন্সের দুর্বলতা প্রকট হয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু বুকেনিয়া। 

তা বলে সঞ্জয় সেনের ছেলেরা যে প্রচুর গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন , তা নয়, তবে ম্যাচে প্রাধান্য ছিল তাঁদেরই। শেষের কয়েক মিনিট মরিয়া চেষ্টা করেছিল মরগ্যান বাহিনী। তবে তত ক্ষণে অহেতুক মাথা গরম করে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন প্লাজা। 

১৪ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে আই লিগে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল সবুজমেরুন। ১৫ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় ইস্টবেঙ্গল। শেষ কয়েকটা ম্যাচে মরগ্যানের ছেলেদের পারফরমেন্সের গ্রাফ ক্রমেই খারাপের দিকে।

অতএব এদিন বিকেলে বেঙ্গালুরুর কাছে ১-০ গোলে হেরে এক নম্বরে থাকা (১৫ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট) আইজল এফসি কলকাতার প্রধানদের আই লিগ ঘরে তোলার যে সুযোগ করে দিয়েছে, সেটা কাজে লাগানোর ব্যাপারে বাজি রাখতেই হচ্ছে পালতোলা নৌকোর ওপর। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here