নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : নোটবন্দির ফেরে পড়ে নিজের কষ্টের সঞ্চয় জমা দিয়েছিলেন ব্যাঙ্কে। অথচ তুলতে গিয়ে দেখেন অ্যাকাউন্টে টাকা জমাই পড়েনি। সামান্য রোজগার থেকে তিলে তিলে জমানো সঞ্চয় খুইয়ে দিশেহারা জলপাইগুড়ির নারায়ণী দাস। অভিযোগ স্টেট ব্যাঙ্কের জলপাইগুড়ি প্রধান শাখার বিরুদ্ধে।

চার জনের দিন আনি দিন খাইয়ের সংসার নারায়ণী দেবীর। থাকেন জলপাইগুড়ি শহরের এক প্রান্তে সুভাষ উন্নয়ন পল্লিতে। অন্যের বাড়ির বাসন মেজে আর স্বামীর মাছের দোকান থেকে যেটুকু আয় হয় তাই সম্বল। দুর্দিনের কথা চিন্তা করে তার থেকেই অল্প অল্প করে জমিয়েছিলেন কিছু টাকা। এর মধ্যেই ৮ নভেম্বর ৫০০ আর ১০০০ টাকার নোট বাতিলের ঘোষণা। অগত্যা বাড়িতে জমানো ৫০০ আর ১০০০টাকার নোটগুলি নিয়ে ১৩ নভেম্বর ক্লাব রোডে স্টেট ব্যাঙ্কের জলপাইগুড়ি প্রধান শাখায় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। নিজের অ্যাকাউন্টে জমাও দিয়েছিলেন উনপঞ্চাশ হাজার টাকা। কিন্ত গত ফেব্রুয়ারি মাসে চিকিৎসার প্রয়োজনে টাকা তুলতে গিয়ে মাথায় বাজ পড়ে নারায়ণী দেবীর। ব্যাঙ্ক থেকে জানানো হয় তাঁর অ্যাকাউন্টে ওই তারিখে কোনো টাকা জমাই পড়েনি। পাসবই আপডেট করেও তাই দেখা যায়। অথচ ডিপোজিট স্লিপের কাউন্টার পার্ট রয়েছে তাঁর কাছে। সেখানে ব্যাঙ্কের সিলমোহর জ্বলজ্বল করছে।

দিশেহারা ওই মহিলা এরপর কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। সে দিন কাউন্টারে যিনি ছিলেন তাঁর কাছে গেলে, তিনিও টাকা জমা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। এর পর ব্যাঙ্কের চিফ ম্যানেজার বিদ্যাসাগর প্রসাদের দ্বারস্থ হন নারায়ণী দাস ও তাঁর ছেলে রবি। অভিযোগ দিনের পর দিন হয়রানি ছাড়া আর কোনো সাহায্য করতে পারেননি চিফ ম্যানেজার। নিরক্ষর নারায়ণী দেবীও কোনো কুলকিনারা পাচ্ছিলেন না। তাঁর ছেলে রবির অভিযোগ, টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই তাঁদের অভিযোগে কর্ণপাত করছে না ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। এর পরে কয়েক জন শুভান্যুধায়ীর পরামর্শে আইনের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নারায়ণী দেবী। শুক্রবার জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জানান তিনি। অভিযোগ পাওয়ার পরই তৎপর হয় পুলিশ। কোতোয়ালি থানার আইসি শুভাশিস চাকী জানিয়েছেন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। যদিও ব্যাঙ্কের চিফ ম্যানেজার বিদ্যাসাগর প্রসাদ এই প্রসঙ্গে কোনো কথা বলতেই রাজি হননি। আপাতত পুলিশের আশ্বাসেই ভরসা করে কষ্টের টাকা ফেরত পাবেন, এই আশায় দিন গুনছে নারায়ণীদেবীর পরিবার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here