খবর অনলাইন : যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে ঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা সর্বকালীন রেকর্ড করেছে। ২০১৫ সালের শেষে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৫৩ লক্ষ। সোমবার বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এই তথ্য দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের শরণার্থী সংস্থা। এই সাড়ে ৬ কোটিরও বেশি মানুষের মধ্যে অন্য দেশে আশ্রয়প্রার্থীরা যেমন আছেন, তেমনই আছেন নিজেদের দেশেই বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষ। আর এঁদের মধ্যে অর্ধেকেরই বয়স ১৮-রও নীচে।

ইউনাইটেড নেশনস্‌ হাই কমিশনার ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর) তাদের রিপোর্টে বলেছে, এই প্রথম পৃথিবীতে শরণার্থীর সংখ্যা ৬ কোটি ছাড়াল। শরণার্থীদের ৫৪ শতাংশই এসেছেন মাত্র তিনটি দেশ থেকে – সিরিয়া, আফগানিস্তান এবং সোমালিয়া। ২০১৫ সালে ১০ লক্ষ সিরীয় নতুন শরণার্থী হিসাবে নাম লিখিয়েছেন। এই নিয়ে সিরীয় শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ লক্ষ। সারা বিশ্বে আফগান শরণার্থীর সংখ্যা ২০১৫-য় ছিল ২৭ লক্ষ এবং সোমালি শরণার্থীর সংখ্যা ১১ লক্ষ। গত চার বছরে শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৫৫ শতাংশ। মূলত সিরিয়া ও আফগানিস্তানে সংঘর্ষের জন্যই এই বৃদ্ধি।

রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালে সংঘর্ষ বা নির্যাতনের জন্য নতুন করে ১২৪ লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছেন অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ২৪ জন করে। এঁদের মধ্যে ৮৬ লক্ষ মানুষই নিজেদের দেশের সীমানার মধ্যেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

রাষ্ট্রপুঞ্জ তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, বিশ্বের সব চেয়ে কম উন্নত দেশগুলিই মোট শরণার্থীর ২৬ শতাংশকে আশ্রয় দিয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাতে সব চেয়ে বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে লেবানন। এই দেশে প্রতি ১০০০ জন অধিবাসীর মধ্যে ১৮৩ জন শরণার্থী। এর পরেই স্থান জর্ডন ও নাউরুর। আর মোট হিসাবে সব চেয়ে বেশি শরণার্থী রয়েছেন তুরস্কে, ২৫ লক্ষ। এর পরেই পাকিস্তান আর লেবাননের স্থান।ref1

অভিবাসন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা আইওএম-এর হিসাব, সিরিয়া-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশ ও আফ্রিকা থেকে গত কয়েক বছরে ১০ লক্ষ ১১ হাজারের বেশি মানুষ বিপদসংকুল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছেছে। অন্য কিছু সূত্রে অবশ্য এই সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করা হয়। এরই সূত্র ধরে ইউএনএইচসিআর-এর প্রধান বলেছেন, শরণার্থী সংকট দেখা দেওয়ার পর ইউরোপে উদ্বেগজনক জাতিবিদ্বেষের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

গত বছর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শরণার্থী স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য বা আশ্রয় প্রার্থনা করে ২০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। সব চেয়ে জার্মানিতে, ৪ লক্ষ ৪১ হাজার ৯০০। এর পরেই স্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ১ লক্ষ ৭২ হাজার ৭০০।

শরণার্থী সংক্রান্ত রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০১৫-তে রাষ্ট্রহীন মানুষের সংখ্যা ১০০ লক্ষ। তবে ইউএনএইচসিআর মনে করে, সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি। কারণ বিভিন্ন দেশের সরকার এজেন্সিকে সংখ্যাটা কম করেই জানায়। শুধুমাত্র তাইল্যান্ডেই রাষ্ট্রহীন মানুষের সংখ্যা ৫ লক্ষ।

ইউএনএইচসিআর-এর রিপোর্ট বলছে, এই শরণার্থীদের নিয়ে যদি একটা দেশ গড়া যায় তা হলে তা বিশ্বের একুশতম জনবহুল দেশ হবে। সারা পৃথিবীতে এখন প্রতি ১১৩ জনের মধ্যে ১ জন বাস্তুচ্যুত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here