লখনউ: সে কথা বলতে পারে না, বানরদের মতো কিচির মিচির করে; সে দু’ পায়ে হাঁটতে পারে না, চার হাত-পায়ে হাঁটে। ঠিক যেন, রুডিইয়ার্ড কিপলিং-এর মোগলি। ডাক্তারদের অনুমান, তার বয়স ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। উত্তর প্রদেশের এক জঙ্গল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন সে রয়েছে লখনউয়ের মেডিক্যাল কলেজে। তার নাম রাখা হয়েছে বনদুর্গা।

‘বনদুর্গা’কে প্রথম দেখা যায় নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন কাতারনিয়াঘাট সংরক্ষিত অরণ্যে। বনে কাঠ কাটতে গিয়ে তাকে প্রথম দেখতে পান  কাঠুরিয়ারা। তাঁরা মেয়েটিকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু বানরদের তাড়ায় পালিয়ে যান। তার পর তাঁরা খবর দেন পুলিশের টহলদার বাহিনীকে। বাহিনীর সাব ইন্সপেক্টর সুরেশ যাদব জানান, তাঁরা যখন জঙ্গলে যান তাকে উদ্ধার করতে, তখন সে বানরদের সঙ্গে খেলছিল। পরনে কোনো পোশাক ছিল না। দেহের বেশ কয়েক জায়গায় ক্ষত। দেখে মনে হয়, ঠিকঠাক খেতে পায় না। তাকে জঙ্গল থেকে নিয়ে আসার সময়ে বানররা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের গাড়িকে ধাওয়া করে তারা। তবে শেষ পর্যন্ত রণে ভঙ্গ দেয়।   

প্রায় মাস দু’য়েক হল ‘বনদুর্গা’ হাসপাতালে রয়েছে। হাসপাতালের চিফ মেডিক্যাল সুপারিন্টেনডেন্ট ডি কে সিং বলেন, অপুষ্টিতে ভুগছিল মেয়েটি। গোড়ায় গোড়ায় ও জন্তুদের মতো আচরণ করত। মানুষ দেখলে ভয় পেত। চার হাত-পায়ে তো চলতই, এমনকি মেঝেতে খাবার ফেলে মুখ দিয়ে খেত। এখন দীর্ঘ চিকিৎসার পর স্বাভাবিক ভাবে হাঁটছে, খাচ্ছে। “এখনও অবশ্য কথা বলতে পারে না। তবে বুঝতে পারে, বুঝতে পেরে হাসে।” তবে অন্য ডাক্তাররা বলেন, সুযোগ পেলেই ‘বনদুর্গা’ চার হাত-পায়ে চলে। তার গায়ে, হাতে, পায়ে এমন সব চিহ্ন আছে, দেখে মনে হচ্ছে সে বেশ কিছু দিন ধরেই জঙ্গলে ছিল।

কিন্তু ‘বনদুর্গা’ কী ভাবে জঙ্গলে এল সেটাই রহস্য।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here