খবর অনলাইন: অমুসলিমদের হত্যার নিন্দা করলেন বাংলাদেশের লক্ষাধিক মুফতি ও আলেম-ওলামা। বাংলাদেশে বাড়তে থাকা হিংসার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাস ‘হারাম’ বা ধর্মবিরোধী। তাঁরা বলেছেন, অমুসলিমদের মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে হামলা ইসলামের দৃষ্টিতে অবৈধ। অমুসলিমদের হত্যা করা ইসলামের দৃষ্টিতে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে জঙ্গিরা। প্রথমে তাদের নিশানায় ছিলেন লেখক, প্রকাশক, ব্লগাররা। তার পর এখন তাদের টার্গেট ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা। তাদের আক্রমণের বলি হয়েছেন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী, হিন্দু পুরোহিত, খ্রিস্টান যাজক। ইতিমধ্যে খুন হন উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারের স্ত্রী। এর পরই নড়েচড়ে বসে হাসিনা সরকার। জঙ্গিদের ধরতে দেশ জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)। গত কয়েক দিনে হাজার তিনেক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকশো জঙ্গি আছে বলে পুলিশের দাবি।

ইতিমধ্যে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে যখন ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান তথাকথিত আইএসের কাছ থেকে হুমকি চিঠি পান। কুষ্ঠিয়ার অনুকূল আশ্রমের এক সাধককেও খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসার জন্য দেশের আলেম-ওলামাদের কাছে আর্জি জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই আর্জিতে সাড়া দিয়ে জঙ্গিদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দেশের সব ওলামার কাছে প্রচার চালান ‘বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা’র নেতারা। সেই প্রচারে প্রচুর সাড়া মেলে। জারি হয় ফতোয়া।

শনিবার ঢাকায় এই ফতোয়া প্রকাশ করেন জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান মৌলানা ফরিদুদ্দিন মাসুদ। তিনি বলেন, “ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম সন্ত্রাস ও নিরীহ মানুষের হত্যাকে সমর্থন করে না। এ ধরনের কাজ যারা করে, তাদের শেষকৃত্য করাটাও হারেম বা অবৈধ কাজ।” মাসুদ জানিয়েছেন, দেশের ১ লক্ষ ১৮৫০ জন মুসলিম ধর্মীয় নেতা, মাদ্রাসা শিক্ষক ও আলেমের সই করা ওই ফতোয়ার প্রতিলিপি সব মসজিদে রাখা থাকবে। সেই সঙ্গে ফতোয়াটি পাঠানো হবে মক্কার কাবা মসজিদের ইমাম, রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং ওআইসি-র নেতাদের কাছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here