কলকাতা ১৭৮-৭ [মনীশ ৮১ নট আউট (৪৭), লিন ৩২ (২৪), ক্রুনাল পাণ্ড্য ৩-২৪]

মুম্বই  ১৮০-৬ [নীতিশ রানা ৫০ (২৯), পার্থিব ৩০ (২৭), রাজপুত ৩-৩৭]

মুম্বই: নীতীশ রানাকে এই ম্যাচের আগে খুব একটা কেউ চিনত বলে মনে হয় না। কিন্তু দিল্লির হয়ে খেলা এই ক্রিকেটারের সুবাদেই জেতা ম্যাচটা হেরে গেল কলকাতা। তাঁকে যোগ্য সংগত দিল শেষ লগ্নে হার্দিক পাণ্ড্যর ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং। কিন্তু  এই সবের ফলের থেকেও বেশি যে ব্যাপারটা এ দিন বিতর্কের শীর্ষে থাকল তা হল আম্পায়ারিং-এর মান। ম্যাচের মধ্যে একাধিক ভুল আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত জানান দিয়ে গেল এ বার আইপিএলেও ডিআরএস শুরু করার সময় এসেছে।

কেকেআরের ব্যাটিং গভীরতা যে দুর্দান্ত এ দিন বুঝিয়ে দেন মনীশ পাণ্ডে। ঝোড়ো শুরু করলেও পঞ্চম ওভারেই তাল কেটে যায়। ক্রুনাল পাণ্ড্যর বলে ফিরে যান গম্ভীর। একই ওভারে ফেরেন রবিন উথাপ্পাও। দ্রুত আরও দু’টি উইকেট খুইয়ে এক সময় বেশ চাপেই পড়ে যায় কলকাতা। দলের স্কোর তখন চার উইকেটে ৮৭। কিন্তু মনীশ পাণ্ডের দাপটে দ্রুত সেই চাপ কাটিয়ে ওঠে কেকেআর। ২০১৪-এর আইপিএলের ফাইনালে একার হাতে কেকেআরকে জিতিয়েছিলেন পাণ্ডে, এ দিন তাঁর ব্যাটিং-এ সেই ছাপ স্পষ্ট ছিল। বাকি ব্যাটসম্যানরা কুড়ির গণ্ডী না পেরোলেও কেকেআরকে ১৭৮-এ পৌঁছে দেন পাণ্ডে।

রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন পার্থিব পটেল এবং জস বাটলার। অষ্টম ওভার পর্যন্ত অপরাজিত ছিল এই জুটি। কিন্তু পর পর দু’ওভারে দুই ব্যাটসম্যানকে তুলে নেন কুলদীপ যাদব এবং অঙ্কিত রাজপুত। দ্বিতীয় উইকেটটি নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ ছিল। হকআইতে পরিষ্কার দেখা গিয়েছে লেগ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল বল। দশম ওভারে আম্পায়ারের বদান্যতাতেই তৃতীয় উইকেট পায় কেকেআর। ব্যাটে খোঁচা লাগলেও, রোহিত শর্মাকে এলবিডব্লিউ আউট দেন আম্পায়ার। এতে ক্ষুব্ধ হন রোহিত।

রোহিত ফেরার পর সে ভাবে বড়ো শট খেলার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি মুম্বইয়ের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে। ১৭ রান করতে ১৭টা বল খরচা করেন মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত কিরণ পোলার্ড। তবে আঠারো নম্বর ওভার থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নীতীশ। পরপর চার ছয়ে মুম্বইয়ের হাতের নাগালে নিয়ে আসেন ম্যাচকে। কিন্তু তিনি আউট হওয়ার পরেও ম্যাচে প্রবল ভাবে ছিল কলকাতা। তবে শেষ ওভারে পাণ্ড্যর তাণ্ডব এবং ফিল্ডারদের ভুল ফিল্ডিং মুম্বইকে ম্যাচটা উপহার দিয়ে এল।

কেকেআরের হারের পাশাপাশি তাদের শিবিরে চিন্তার ভাঁজ হয়ে দাঁড়াল ক্রিশ লিনের চোট। এখন দেখার কত দিন মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here