অর্ণব দত্ত

পাওয়ার গ্রিড নিয়ে আন্দোলনকারীদের হুমকি সত্ত্বেও প্ৰশাসন নমনীয়তা দেখাল না। বিক্ষোভরতদের মধ্যে থেকে ধৃত ১১ জনের জামিন মঞ্জুর করল না বারুইপুর আদালত। সোমবার ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ৯ জনকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বাকি দুই নাবালককে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বারুইপুর মহকুমা আদালতের বিচারক।

ভাঙড়ে আন্দোলনরত জমি-জীবিকা, বাস্ততন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির তরফে রবিবার পরিষ্কার ভাবে জানানো হয়েছিল,  ধৃত ১১ জনকে সোমবার আদালতে জামিনে মুক্ত না করা হলে আন্দোলন জোরদার করা হবে। এ দিন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পরে কমিটির তরফে আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা তৈরির জন্য ভাঙড়ের নতুনহাটের কাছে তপোবন এলাকায় এক সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। কমিটির পক্ষে শুক্লা ভুঁইমাল জানিয়েছেন, ওই সমাবেশে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে হাড়োয়া রোড অনির্দিষ্টকালের জন্যে অবরুদ্ধ থাকবে। প্রসঙ্গত, হাড়োয়া রোড দিয়ে কলকাতার পাইকারি বাজারগুলিতে শাকসবজি ও মাছ চালান করা হয়ে থাকে। রাস্তা অবরোধের জেরে কলকাতার বাজারে জোগানে টান পড়বে তা বলা বাহুল্য।

তবে কমিটির আশা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক হয়তো খুব শীঘ্রই তাঁর প্রতিশ্রুতিমতো আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন। এ দিন জমি-জীবিকা, বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির নেতা মহাদেব মণ্ডল জানিয়েছেন, “সরকার আদতে কী চাইছে, তা আমাদের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। তবে যে কোনো মূল্যে আমরা পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প বাতিলের জন্যে আমরা প্রস্তুত।

এ দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল রয়েছে সিপিআই (এমএল) রেড স্টারের সাধারণ সম্পাদক কে এম রামচন্দ্রনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায়। সোমবার ভাঙড়ের পাওয়ার গ্রিড ‌নিয়ে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা ছিল রামচন্দ্রনের। সেই অনুযায়ী রবিবার বিকেলে তিনি লখনউ থেকে ট্রেনে কলকাতা আসেন। এর পরেই তাঁর কোনো খোঁজ মিলছে না।

রেড স্টারের রাজ্য সম্পাদক প্রদীপ সিংহ চৌধুরীর অভিযোগ, পুলিশ রামচন্দ্রনকে কোথাও আটকে রেখেছে এবং তা অস্বীকার করছে।

ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প বাতিলের দাবিতে যে‌ সমস্ত নকশালপন্থী সংগঠনের কর্মীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের ভিতর অন্যতম সিপিআই (এমএল) রেডস্টার। সংগঠনের তরফে সাধারণ সম্পাদক রামচন্দ্রনের রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুলিশি হস্তক্ষেপ চেয়ে একটি প্রতিনিধিদল লালবাজারে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে যায়। তবে এ দিন ছুটির দিন থাকায় পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে তাঁরা দেখা করতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রে্র খবর, প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দেখা করেন মিসিং স্কোয়াডের ওসি-র সঙ্গে। তিনি তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন, রামচন্দ্রন কোথায় রয়েছেন তার হদিশ জানার জন্যে সর্বতো ভাবে চেষ্টা চালানো হবে।

প্রদীপবাবুর অভিযোগ, রামচন্দ্রনকে মোবাইলে ফোন করলে তাঁর ফোন বাজছে। তবে তিনি মোবাইল ধরছেন না। পুলিশ ওঁকে কোথাও আটক করে রেখে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here