বাবা-মায়ের উচ্চাশার চাপ নিতে না পেরে ১১ বছরের ছাত্র আত্মঘাতী

0
285

হায়দরাবাদ: বাবা-মায়ের বড়ো আশা, ছেলে তাদের ইঞ্জিনিয়ার হবে। শুধু তা-ই নয়, আইআইটি থেকে পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার। তাই ১১ বছর বয়সেই ভর্তি করে দিয়েছিলেন আইআইটি ফাউন্ডেশন কোর্সে। কিন্তু ছেলে বাবা-মায়ের আশা পূরণ করতে পারল না। নিতে পারল না পড়ার চাপ। শেষ পর্যন্ত স্কুলবাড়ির তিনতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হল সে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটে তেলঙ্গানার করিমনগর শহরে। আত্মঘাতী ছাত্রের নাম জি স্রিকর রেড্ডি। সে সিদ্ধার্থ হাই স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ত।

করিমনগর ওয়ান টাউনের পুলিশ ইনসপেক্টর শ্রীনিবাস রাও বলেন, “বন্ধুদের নিয়ে স্রিকর তিনতলায় ক্লাসরুমে গিয়েছিল। কিন্তু চোখের নিমিষে সে বারান্দায় বেরিয়ে আসে এবং নীচে ঝাঁপ দেয়। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় কর্পোরেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।”

ন্যাশনাল ক্রাইমস্‌ রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুসারে ২০১৫ সালে ভারতে প্রতি ঘণ্টায় এক জন করে ছাত্র আত্মঘাতী হয়। ২০১২-এর ল্যানসেট রিপোর্ট অনুসারে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ভারতে সব চেয়ে বেশি।

প্রতিবেশী জেলা পেড্ডাপল্লির ধর্মারম ব্লকের গোল্লাপল্লি গ্রামের জি শশীধর রেড্ডি এবং শারদার একমাত্র সন্তান স্রিকর। বাবা-মা বলেছেন, তাঁরা তাঁদের ছেলেকে সব চেয়ে ভালো শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন।

শশীধর রেড্ডি পেশায় কৃষক। তিনি পুলিশকে বলেন, তাঁরা চেয়েছিলেন ছেলেকে ‘টপ ইঞ্জিনিয়ার’ করবেন। তার জন্য ছেলেকে স্কুল পরিচালিত আইআইটি ফাউন্ডেশন কোর্সে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। “তবে পড়াশোনায় তেমন আগ্রহ ছিল না স্রিকরের। তবে এই কাণ্ড করবে তা কখনোই ভাবতে পারিনি।”

প্রথমে স্রিকরের বাবা-মায়ের অভিযোগ ছিল স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তাদের অবহেলাতেই নাকি তাঁদের ছেলে আত্মঘাতী হয়েছে। পরে অবশ্য পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার সময় তাঁরা তাঁদের বয়ান বদল করেন। বলেন, মানসিক ভাবে খুব অস্বস্তিতে ছিল স্রিকর।

চলতি সপ্তাহে তেলঙ্গানায় এ ধরনের ঘটনা দ্বিতীয়। বুধবার হায়দরাবাদ শহরের উপকণ্ঠে জীদিমেটলায় তেলঙ্গানা মাইনরিটি ওয়েলফেয়ার রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের হোস্টেলের ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় ১২ বছরের ছাত্র ফরিদুদ্দিন। তারও আত্মহত্যার কারণ পড়াশোনা বলে জানা গিয়েছে।

ন্যাশনাল ক্রাইমস্‌ রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুসারে ২০১৫ সালে ভারতে প্রতি ঘণ্টায় এক জন করে ছাত্র আত্মঘাতী হয়। ২০১২-এর ল্যানসেট রিপোর্ট অনুসারে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সিদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ভারতে সব চেয়ে বেশি।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here