ghost teacher

নয়াদিল্লি: কলেজের ক্লাসে তাঁদের দেখা যায় না। কোনো ছাত্র-ছাত্রী কোনো দিনই তাঁদের টিকির নাগাল পাননি। কিন্তু তাঁরা বেতন পেয়ে যান সময় মতো। আবার শিক্ষকদের জন্য অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করেন রীতি মতো। আপনি বলবেন, তা হলে তো তাঁদের কোনো অস্তিত্বই নেই। কিন্তু বাস্তব সত্য সরকারি নথিতে তাঁরা বিরাজমান। দেশের উচ্চ শিক্ষায় এমন ভুতুড়ে শিক্ষকদের ধরতে আধার নম্বরের প্রাথমিক সহায়তা নিয়ে চক্ষু চড়কগাছ মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের।

বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অভিযোগ আসছে দীর্ঘ দিন ধরেই। ফলে ভুয়ো শিক্ষকের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে। অভিযোগের সংখ্যা এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছিল যে কর্মরত শিক্ষকদের যাবতীয় তথ্যের সঙ্গেই তাঁদের আধার নম্বর চেয়ে পাঠায় মন্ত্রক। আর সেই তালিকা থেকেই দেখা গিয়েছে প্রায় এক লক্ষ ৩০ হাজার শিক্ষকের অস্তিত্ব কতটা ভূতের মতোই। যা দেখে এবার শিক্ষক নিয়োগে আধার নম্বর নথিভুক্তকরণ আবশ্যক করতে চলেছে মন্ত্রক।

এর আগে অবশ্য নিয়ম না থাকলেও মন্ত্রকের তরফে বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে জানানো হয় সমস্ত শিক্ষকদের আধার নম্বর জ্ঞাত করানোর জন্য। কিন্তু দেশের বেশ কয়েকটি বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাতে অনীহা দেখায়। এই ঘটনা মন্ত্রকের টনক আরও বেশি করে নাড়িয়ে দেয়।পরিচালন কমিটি নিজের মর্জি মতো ভুয়ো নিয়োগ প্রক্রিয়া জারি রেখেছে কোথাও কোথাও। যেমন নতুন কোনো কোর্স শুরু অথবা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনী শিক্ষকের চাহিদা মেটাতে নিয়ন্ত্রক পৰ্ষদের কাছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি অনুমতি চায় কিন্তু তারা নতুন শিক্ষক নিয়োগ করে না।

মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সারা দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি মিলিয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১৪ লক্ষ। এ দেশে ছাত্র-শিক্ষক সংখ্যার অনুপাত ২১‌: ১। মন্ত্রকের আশঙ্কা, ভুয়ো শিক্ষকরা ধরা পড়লে এই অনুপাতের ফারাক আরও বাড়বে। ফলে ওই ভুয়ো শিক্ষক চিহ্নিতকরণে যেমন সুখবরটি হল, এতে শিক্ষার ক্রমাবনতিকে শুধরে নেওয়া যাবে, তেমনই দুখের খবরটি হল, ছাত্র সংখ্যা অনুযায়ী শিক্ষকের ঘাটতি দেখা দেবে।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here