lynching

ওয়েবডেস্ক: ভুয়ো খবরের ফাঁসে গত চল্লিশ দিনে দশ রাজ্যে অন্তত ১৪ জন গণপিটুনিতে খুন হয়ে গিয়েছেন। পুলিশের তরফ থেকে বারবার এই রকম গুজবে বিশ্বাস না করার কথা বলা হলেও, তাতে কোনো কাজই আপাতত হয়নি।

২০ মে থেকে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা, গুজরাত, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ এবং ওড়িশায় এই ঘটনাগুলি ঘটেছে।

এই উন্মত্তার সর্বশেষ শিকার হয়েছেন, ত্রিপুরা সরকার নিযুক্ত একজন কর্মী, সুকান্ত চক্রবর্তী। তাঁর দায়িত্ব ছিল এই ভুয়ো খবরে বিশ্বাস না করার ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। কিন্তু সুকান্তবাবুর খুন হয়ে যাওয়ার খবর বুঝিয়ে দিল, মানুষের মধ্যে এই ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করা আদৌ সহজ কোনো ব্যাপার নয়।

এই ভুয়ো খবরগুলো একটা চক্রের মতো কাজ করছে। সব কিছুতেই বহিরাগতদের লক্ষ করা হচ্ছে। বহিরাগতদের ওপরে ছেলেধরার ‘তকমা’ উঠে যাচ্ছে। সেটা জানতে পেরেই উন্মত্ত জনতা তাদের গণপিটুনি দিতে উদ্যত হচ্ছে।

এই ভুয়ো খবর ছড়ানোর জন্য মূলত সোশ্যাল মিডিয়াকেই দায়ী করেছেন ত্রিপুরার ডিজিপি অখিল শুক্ল। তিনি বলেন, “গুজবে যাতে বিশ্বাস না করা হয়, সে ব্যাপারে মানুষের মধ্যে বারবার সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।”

পাকিস্তানের একটি এনজিও ছেলেধরা বিরোধী একটি সচেতনতামূলক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছিল। সেই ভিডিওটি ভাইরাল হতে হতে ভারতেও এসে পৌঁছেছে। পুলিশের বক্তব্য, এই ভিডিওটিকে জাল করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের খবরে বিশ্বাস না করে পুলিশে খবর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তেলঙ্গানার ডিজিপি এম মহেন্দ্র রেড্ডী। তিনি বলেন, “আপনারা যদি সন্দেহভাজন কাউকে দেখেন, দয়া করে আগে পুলিশকে জানান।”

বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ, তাদের নিজেদের সাইবার সেলের কাছে অনুরোধ করে এই ধরনের খবর আটকানোর জন্য যথাযথ পদক্ষেপ করার। কিন্তু সমস্যা হল, কোনো খবর যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় তা হলে তা আটকানো খুব সমস্যা। এই প্রসঙ্গে ওড়িশার ডিজিপি বলেন, “মানুষ যে দিন থেকে এই খবরে বিশ্বাস করবেন না আর, সে দিন থেকেই এই সমস্যার সমাধান অনেক সহজ হয়ে যাবে।”

সাধারণ মানুষের কাছে তাই খবর অনলাইনের আবেদন, দয়া করে গুজবে কান দেবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের কোনো ভিডিও চোখে পড়লেই যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না। আপনি সচেতন হলেই পুরো সমাজ সচেতন হয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here