হরিয়ানায় মরণ খেলায় গর্তের ভেতরে প্রাণ হারাল ১৭-র কিশোর, মৃত্যুর আগে ২৬ বার ফোন

0
1525

পানিপথ: খেলা দেখাতে গিয়ে প্রাণ গেল ১৭ বছরের যুবক সুমিত খাটির। মাটির নীচে ৬ ফুট গভীর একটি গর্তের ভেতর বস্তার মধ্যে পুড়ে, তাকে মাটি চাপা দিয়ে দেওয়া হয়। খেলার শর্ত ছিল ২৪ ঘণ্টা ওই ভাবে থাকতে হবে। তার বিনিময়ে টাকা পাবে। ওই গর্তের ভেতর থেকে সে ২৬ বার ফোন করেছিল। প্রথম বার ফোনে সব ঠিক আছে এটাই জানিয়ে ছিল সে। তাঁর পরের ২৫টি ফোন কেউ ধরেনি। অবশেষে তাঁর মৃত্যু হয়।

হরিয়ানার পানিপথ জেলার সামাখার কুরার গ্রামের বাসিন্দা সুমিত। মা ৪৫ বছরের পুনম, বাবা ৪৪ বছরের মম চাঁদ। তিন ভাইবোন সুমিতরা। সুমিতের বাবা মা চাইত বাকি দুই সন্তানের মতো সেও পড়াশোনা শিখুক। কিন্তু অল্প বয়সেই সুমিত লেখাপড়া ছেড়ে দেয়। সে স্বেচ্ছায় এই জাতীয় ‘ডেয়ারডেভিল স্টান্ট’-এর খেলা দেখাত। সাইকেলে করে যাওয়ার সময় মাথা দিয়ে বোতল ভাঙার মতো নানা রকমের সাহসী খেলা দেখাতে সুমিত।

সুমিতের বাবা বলেন, ১৬ জুন জগদীপ-সহ আট জন তাঁদের বাড়িতে এসে সুমিতের সঙ্গে খেলার রফা করে যায়। সুমিতের অভিভাবকরা মনে করেছিলেন, এমনই কোনো খেলা দেখানোর জন্য রফা হয়েছিল। তখনও বুঝতে পারেননি যে জীবন পণ করা এই খেলার কথাই হচ্ছিল সে দিন। সে দিনই ছেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। তার পর আর তার সঙ্গে দেখা হয়নি। তার পর ২৬ জুন ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ থানা থেকে ফোন করে তাঁদের ছেলের মৃত্যু সংবাদ জানানো হয়।

২৪ জুন রাত ১০টার সময় ছুলখানা গ্রামের ১১ হাজার লোক জমেছিল সুমিতদের খেলা দেখতে। জায়গাটা সুমিতের বাড়ি থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে একটা সদ্য খোঁড়া খালি গর্ত। ৬ ফুট গভীর গর্তের মধ্যে ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার সুমিতকে একটা চটের বস্তায় পুড়ে, বস্তার মুখটা ২১টা গিঁট দিয়ে বেঁধে গর্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু তার সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল একটা মোবাইল ফোন। রফা হয়েছিল পরের দিন সুমিত বেঁচে থাকলে তাকে ২০০০ টাকা দেওয়া হবে। গোটা খেলাটার আয়োজন করেছিল ২১ বছরের জগদীপ ওরফে কালিয়া। দর্শকদের কাছ থেকে তারা সে দিন ৮৫০০ টাকা আয় করেছিল।

পরের দিন রাত ১০টায় তাকে গর্তের ভেতর থেকে তোলা হয়। সেই সময় সুমিতের জ্ঞান ছিল না। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সুমিতের দিদিমা ৬০ বছরের শকুন্তলা দেবী জানান, তিনিও জানতেন না তার নাতি সুমিতই খেলা দেখাচ্ছে। তিনি পরে জানতে পারেন। পরের দিন সকালে তিনি আয়োজকদের কাছে গিয়ে অনুরোধ করেছিলেন সুমিতকে বের করে আনার জন্য। কিন্তু তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় ২৪ ঘণ্টার আগে তাকে বার করে আনলে তাতে খেলার নিয়ম অনুযায়ী কথার খেলাপ করা হবে।

পড়শি জ্যোতি রানে বলেন, জগদীপের বাড়ি তাঁদের বাড়ির পাশেই। ২৬ তারিখে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। কিন্তু শীঘ্রই তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে মনে করছেন তিনি।

প্রত্যক্ষ দর্শী অমিত কুমার বলেন, গ্রামের ছোটো বড়ো সকলেই খেলা দেখতে এসেছিল। কিন্তু কেউই এই পরিণতির কথা ভাবতে পারেনি। যখন সুমিতকে বের করে আনা হচ্ছিল তখন সবাই আনন্দে চিৎকার করছিল। কিন্তু বস্তার মুখ খোলার পর দেখা গেল সে জ্ঞান হারিয়েছে। ।

সাব ইনস্পেক্টর রমেশ্বর বলেন, গ্রামে এই জাতীয় খেলা দেখানোর চল আছে। তার মধ্যে অনেকগুলো কে তাঁরা বন্ধও করেছেন। কিন্তু এদের ব্যাপারে কিছুই জানতে পারেননি। এরা কোনো অনুমতি তো নেয়ইনি। এমনকি পঞ্চায়েতকেও কিছু জানানো হয়নি। এমন ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here