নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য খাশ রাজধানীতেই কাটা পড়ত সতেরো হাজার গাছ। অবশেষে হস্তক্ষেপ করল আদালত। ২ জুলাই পর্যন্ত এই নির্দেশের ওপরে স্থগিতাদেশ দিয়ে দিল তারা।

কেকে মিশ্র নামক এই আবেদনকারীর আবেদনের ভিত্তিতে এই নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। স্থগিতাদেশ দেওয়ার সময়ে কেন্দ্রকে প্রশ্ন করে আদালত জানতে চায়, “এই প্রকল্পের কাজে কি পরিবেশ আদালতের সম্মতি রয়েছে?”

দক্ষিণ দিল্লিতে সাতটা কলোনিকে নতুন করে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সেখানে তৈরি হবে সরকারি আধিকারিকদের বাংলো, শপিং মল ইত্যাদি। সোমবার তাদের নির্দেশ দিতে গিয়ে আদালত বলে, “রাস্তা চওড়া করার জন্য গাছ কাটা তাও মেনে নেওয়া যায়, তা বলে বাড়ি তৈরির জন্য গাছ কাটা মেনে নেওয়া যায় না।”

এ দিন শুনানির আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিশ্র বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের জন্য কুড়ি হাজারেরও বেশি গাছ কাটা হবে। সিএজির রিপোর্টই বলছে দিল্লি শহরে ন’লক্ষ গাছ কম রয়েছে। তার পরেও এত গাছ কাটা হবে কেন?”

গাছ কাটার খবর চাউর হতেই দিল্লি জুড়ে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবেশপ্রেমীদের বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। কেন্দ্রের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, যত গাছ কাটা হচ্ছে, ততগুলি নতুন চারাগাছ লাগিয়ে দেওয়া হবে। তবে এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে বাসিন্দারা।

গাছ কাটার প্রতিবাদে ১৯৭০ সালের উত্তরাখণ্ডের চিপকো আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছিলেন, দিল্লির সরোজিনী নগরের বাসিন্দারা। গাছকে জড়িয়ে ধরে প্রতিবাদ করেন তাঁরা। তবে পরিবেশপ্রেমীদের বেশি ক্ষুব্ধ হওয়ার কোনো কারণ কিন্তু দেখছেন না কেন্দ্রীয় আবাসন মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। তিনি বলেন, “আমি যত দিন মন্ত্রী থাকব, গাছের অভাব হবে না দিল্লিতে। উন্নয়নের জন্য যত গাছ কাটা হবে, তার তিনগুণ গাছ আমরা লাগিয়ে দেব। পরিবেশপ্রেমীদের বিক্ষোভ দেখানোর কোনো দরকার নেই।”

তবে পরিবেশপ্রেমীরা মনে করছেন, এই স্বস্তি নিতান্ত সাময়িক। পুরো স্বস্তি তখনই আসবে যখন এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাতিল করা দেয় আদালত।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন