কেন্দ্রের কৃষি বিল কৃষক বিরোধী, এ বার সরব হরিয়ানার দুই বিজেপি নেতা

0
farm bills protest

খবর অনলাইন ডেস্ক: সংসদে সদ্য পাশ হওয়া কৃষি বিলগুলিকে ঘিরে ‘ন্যূনতম সহায়ক মূল্য সম্পর্কে উদ্বেগ ভিত্তিহীন নয়’ বলে দাবি করলেন হরিয়ানার দুই বিজেপি নেতা। একই সঙ্গে তাঁরা বিলগুলিকে ‘কৃষক বিরোধী এবং জনবিরোধী’ হিসেবেও অভিহিত করলেন।

হরিয়ানার দুই বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক পরমিন্দর সিং ধুল এবং রামপাল মাজরা বলেন, অসংখ্য কৃষক সংগঠন কেন্দ্রের কৃষিক্ষেত্রে সংস্কার সংক্রান্ত বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে এবং তাদের কথা অবশ্যই শোনা উচিত।

ধুল বলেন, “এই বিলগুলি কৃষক বিরোধী এবং জনবিরোধী। এই সংস্কারগুলি কৃষকদের মুক্তিদাতা হিসাবে বিবেচিত স্যার ছোটু রামের স্বপ্নকে শেষ করে দেবে, যিনি কৃষকদের সমৃদ্ধ ও সুখী দেখতে চেয়েছিলেন”।

কী কারণে বিরোধিতা?

শুক্রবার কৃষি বিলের বিরুদ্ধে ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছিল কৃষক সংগঠনগুলি। পঞ্জাব ও হরিয়ানার বিভিন্ন জায়গা ছাড়াও কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গেও প্রতিবাদ বিক্ষোভে নামে সংগঠনগুলি। অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ দিন বলেন, “কৃষকদের প্ররোচিত করা হচ্ছে। বিজেপি কর্মীদের উচিত, তাঁদের কাছে হাজির হয়ে বিলের ভালো দিকগুলির কথা তুলে ধরা”। এর আগের দিন হরিয়ানার দুই বিজেপি নেতার মন্তব্যই এখন চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

পরমিন্দর সিং ধুল বলেন, “করোনাভাইরাস মহামারির জেরে সংকটে পড়ে অর্থনীতি। সেখানে কৃষিক্ষেত্র নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা যখন এই বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন, তখন অবশ্যই তাঁদের কথাও শোনা উচিত”।

ধুল জানান, গত বৃহস্পতিবার পঞ্জাবের বিজেপি প্রধান ওপি ধানকরের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে বৈঠক হয়। তিনি রাজ্যের দলীয় প্রধানকে বলেন, “আমাদের আরও একটা বিল নিয়ে আসা উচিত। যেখানে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখিত থাকবে, সরকার অথবা বেসরকারি সংস্থা কৃষকদের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের কম দামে ফসল অথবা পণ্য সংগ্রহ করবে না”।

কী বলছেন আর এক বিজেপি নেতা?

অন্য দিকে রামপাল মাজরা বলেন, “ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ছাঁটাই করা হতে পারে, এই আশঙ্কা অমূলক নয়। কৃষকদের কথা আমাদের শুনতে হবে। কারণ, যে কোনো সংস্কারই করা হোক না কেন, তাঁদের উদ্বেগের সমাধান আগে করা দরকার। কোনো বেসরকারি সংস্থার কৃষিপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বজায় রাখার উল্লেখ নেই বিলগুলিতে। অন্য দিকে কৃষকের আইনি প্রতিকারও ক্ষেত্রটিকেও সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে”।

তাঁর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, “কোনো কৃষক প্রতিকার চেয়ে অঞ্চলের মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেটের দ্বারস্থ হতে পারেন। কিন্তু কোনো বড়ো বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে ছোটো কৃষকের বিরোধ দেখা দিলে, তিনি কী ভাবে সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবেন”?

তিনি জোরের সঙ্গে বলেন, “আমি এখন বিজেপিতে রয়েছি। তার মানে এই নয় যে, আমি কৃষকের স্বার্থে মুখ খুলব না। আমাদের দেশ এখন কৃষিক্ষেত্রে যে ধরনের সংস্কার করছে, তা অতীতে বিশ্বের অন্য়ান্য দেশে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের দেখে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত”।

আরও দেখতে পারেন: কৃষি বিল: পঞ্জাবে একাধিক জায়গায় সিপিএমের জাতীয় সড়ক অবরোধের কয়েকটি মুহূর্ত

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন