ওয়েবডেস্ক: কর্মসংস্থান নিয়ে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক দলের চরম বিতণ্ডার মাঝেই বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদে জমা পড়া রিপোর্টগুলি  থেকেই উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য পরিসংখ্যান। ওই রিপোর্টগুলি থেকেই স্পষ্ট, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মিলিয়ে প্রায় ২৪ লক্ষ শূন্যপদ পড়ে রয়েছে নিয়োগ পদ্ধতির ঢিলেমির শিকার হয়ে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সংসদের একট প্রশ্নোত্তর থেকে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র দেশের স্কুলগুলিতে শিক্ষক শূন্যপদ ১০ লক্ষের উপর। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষকের শূন্যপদ ৯ লক্ষ এবং মাধ্যমিকে ১.১ লক্ষ।

এর বাইরে কেন্দ্রের পরিচালনাধীন সর্বশিক্ষা অভিযানেও শিক্ষক-পড়ুয়ার অনুপাতে রয়েছে চরম বৈষম্য। উল্লেখ্য়, কেন্দ্রীয় সরকারের পরিচালনাধীন এই প্রকল্পগুলিতে সমান ভাবে দায়িত্ব বহন করার কথা রয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিরও।

গত ২৭ মার্চ সংসদে জমা করা একটি লিখিত জবাব থেকে স্পষ্ট, ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট জানিয়েছে, সারা দেশে পুলিশে শূন্যপদ ৪.৪ লক্ষ। সাধারণ এবং জেলা সশস্ত্র পুলিশ মিলিয়ে এই বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নিয়োগের ব্যাপারে কোনো হেলদোল দেখা যায়নি সরকারি ভাবে। ওই রিপোর্টেই জানা গিয়েছে, শূন্য হয়ে পড়ে রয়েছে ৯০ হাজার সশস্ত্র পুলিশের অন্যান্য পদ। ফলে সব মিলিয়ে পুলিশ বিভাগে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ৫.৪ লক্ষ।

একই ভাবে গত ১৪ ও ১৯ মার্চ এবং ৪ এপ্রিল সংসদে জমা পড়া রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, প্রতিরক্ষা পরিষেবা এবং আধা-সামরিক বাহিনীতে শূন্যপদের সংখ্যা ১.২ লক্ষ।

বিশাল সংখ্যক পদ নিয়োগের অভাবে খালি হয়ে পড়ে আছে ভারতীয় রেলেও। এ ব্যাপারে রাজ্যসভায় ১৬ মার্চ জমা পড়া রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, নন-গেজেট পর্যায়ে প্রায় ২.৫ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের অভাবে ভুগছে রেল। এ ব্যাপারে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির দু-টি নির্দেশিকায় ৮৯ হাজার কর্মী নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে রেলে।

গত ২৮ মার্চ লোকসভার প্রশ্নোত্তরে জানা গিয়েছে, ভারতীয় ডাকে সে সময় পর্যন্ত শূন্যপদের সংখ্য়া ৫৪ হাজার। সাধারণ মানুষের পরিষেবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে শূন্যপদের সংখ্যা দেড় লক্ষ। এ কথা রাজ্যসভার ৬ ফেব্রুয়ারির প্রশ্নোত্তর থেকে জানা গিয়েছে। এমনকী সারা দেশে হাসপাতালগুলি ১৬ হাজার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে ধুঁকছে বলেও ওই রিপোর্টে ধরা পড়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন