suicide

ওয়েবডেস্ক: কখনও চরম হতাশা বা কখনও বন্ধুত্ব জনিত কারণ, ড্রাগের নেশা, সম্পর্কের বিচ্ছেদের জেরে আত্মহত্যার পথে পা বাড়ানো ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে এ দেশে। সাম্প্রতিক সরকারি রিপোর্টে পড়ুয়া-অপমৃত্যুর এই ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সংস্থাও। ওই রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, এ দেশে প্রতি দিন গড়ে ২৬ জন ছাত্র-ছাত্রী আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। আর ওই তালিকার শীৰ্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ এবং মহারাষ্ট্র। উল্লেখ্য, গত ২০১৬-তে এ দেশে মোট ৯৪৭৪টি এ ধরনের আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ২০১৭-তে যে এই সংখ্যা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে, সে বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

মনস্তাত্ত্বিকরা এ বিষয়ে তিনটি কারণকেই মুখ্য হিসাবে চিহ্নিত করে তা রোধের ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানাচ্ছেন। যে কোনো ধরনের অভাব জনিত বিষন্নতা, সিজোফ্রেনিয়া বা বিশেষ এক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও ড্রাগ, অ্যালকোহল অথবা অন্য কোনো মাদকের প্রতি আসক্তি থেকেই উৎপন্ন হচ্ছে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার মানসিকতা। হতাশাগ্রস্ত হয়ে নিজের সমস্যার কথা না বলতে পারার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই তারা যে এ ধরনের চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলছে, সে বিষয়ে এক মত সব মহলই। না বাড়িতে আর না স্কুল-কলেজে নিজের যন্ত্রণার কথা বলে হালকা হওয়ার সুযোগ মিললে হয়তো তাদের আটকানো সম্ভব বলে মনে করছে। মূলত ১০ বছরের বেশি বয়স্ক ছাত্র-ছাত্রীদের পর্যাপ্ত মানসিক পরামর্শ দানের জন্য স্কুল-কলেজগুলিতে বিশেষজ্ঞ নিযুক্তির প্রস্তাবও জানানো হয়েছে কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে।

সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর চাইল্ড রাইটস ট্রাস্ট নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের  আত্মহননের পথ থেকে বিরত করার জন্য সমাজের বিশেষ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।তাদের মতে, স্কুল-কলেজে পাঠরতদের সামনে হাজির হয় নিজের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত হাজারো প্রশ্ন। কেউ কেউ অন্ধকারে পথ হাতড়ানোর মতো এলোমেলো সঞ্চারিত করে নিজের ভাবনাকে। যার প্রভাব পড়ে তার জীবনে। কিন্তু তা বাইরে থেকে সহজে টের পাওয়া মুশকিল। এর জন্য প্রয়োজন তাঁর অবিভাবক, আত্মীয়-পরিজন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষম পরিচর্যা। যা থেকে বর্তমানে বঞ্চিত হতে হচ্ছে অনেককেই।

রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৪-১৬ পর্যন্ত সময়কালে পড়ুয়াদের আত্মহত্যার হার প্রায় একই ছিল। তখন এই হার ছিল প্রতিদিন গড়ে ২৪ জন। কিন্তু ২০১৬-এর পর থেকে তার ঊর্ধ্বগামিতা ভাবিয়ে তুলেছে খোদ মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রককেও।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here