অসমে বন্যায় মৃত তিন, বিপদসীমার উপরে ব্রহ্মপুত্র-সহ বিভিন্ন নদী

0
assam flood
অসমে বন্যা। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহাটি: ব্ৰহ্মপুত্ৰ এবং এর উপনদীগুলির জল মঙ্গলবার থেকে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। রাজ্যের ১৪৫টি গ্ৰামের ১৪টি রাজস্ব সার্কলের ৬২,৪১৯ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্ৰস্ত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত এই বিন্যায় তিন জনের প্রাণ গিয়েছে।

বন্যাপীড়িত ২০৩ জন মানুষ পাঁচটি শিবিরে আশ্ৰয় নিয়েছেন। গোলাঘাটের ৪টি এবং যোরহাট জেলার একটি শিবিরে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে বন্যাক্ৰান্তদের। অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। নিমাতিঘাটে ব্ৰহ্মপুত্ৰ বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। নুমলিগড়ে ধনশিরি, এনটি রোডে জিয়াভরলি, পুঠিমারি ন্যাশনাল হাইওয়ে রোডে এবং বরপেটায় বেকি নদীর জলস্তর বিপদসীমা ছাপিয়ে গিয়েছে।

ভুটান এবং অরুণাচল প্ৰদেশে গত কয়েক দিন ধরে অবিশ্ৰান্ত বৃষ্টিপাতের ফলে এই নদীগুলোতে জলস্ফীতি দেখা দেয়। রিপোর্টে প্ৰকাশ, নিপকো তাদের রঙানদী জলবিদ্যুৎ প্ৰকল্প থেকে বাড়তি জল ছাড়ায় ধেমাজি, লখিমপুর জেলা বন্যার জলে ভাসছে। রাজ্যের আট জেলায় ৩,৪৩৫ হেক্টর কৃষিভূমি বন্যায় ক্ষতিগ্ৰস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্ৰস্ত জেলাগুলির তালিকায় রয়েছে ধেমাজি, লখিমপুর, বিশ্বনাথ, বরপেটা, চিরাং, গোলাঘাট, যোরহাট এবং ডিব্ৰুগড়। বন্যায় এ পর্যন্ত ১৭,২৭৫টি গবাদি পশু মারা গিয়েছে। ৪৮৩৮টি হাঁস-মুরগির খামার ক্ষতিগ্ৰস্ত হয়েছে।

ওদালগুড়ি এবং বরপেটার বিভিন্ন স্থানের রাস্তা বন্যার জলে ক্ষতিগ্ৰস্ত হয়েছে। লখিমপুর জেলার দু’টো স্থানে কালভার্ট এবং সেতু ভেসে গিয়েছে বন্যার আগ্ৰাসী তাণ্ডবে। বরপেটা জেলার বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ফাটল ধরেছে। ওদিকে ডিমা হাসাও জেলায় ধস নামার খবর পাওয়া গিয়েছে। শোণিতপুর, ওদালগুড়ি, যোরহাট এবং বরপেটা জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকার খবর রয়েছে।

আরও পড়ুন বৃষ্টিতে জেরবার পাহাড়, কার্শিয়াংয়ের বিভিন্ন জায়গায় ধস, জল বাড়ছে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে

লখিমপুর থেকে আমাদের প্ৰতিবেদক জানিয়েছেন, অরুণাচল প্ৰদেশের ইয়াজলিতে থাকা রঙানদী জলবিদ্যুৎ প্ৰকল্পের জলাধার থেকে নিপকো বাড়তি জল ছেড়ে দেওয়ায় উত্তর লখিমপুর ও নাওবৈসা রাজস্ব সার্কলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ডুবে গিয়েছে। বন্যার প্ৰকোপে এই দু’টো অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবন পঙ্গু হয়ে পড়েছে। নদীর কূল ছাপানো জল বরবিল, ২নং গোবরিশালি, ৯/৬ কৈলামারি, আমতোলা পিজিআর, খামডু মিরি, লখিমপুর রাজস্ব সার্কলের খরকাটি ইত্যাদি অঞ্চল ডুবিয়ে দিয়েছে।

এ ছাড়াও দিজু চাপরি, ১নং দিজু পথার, ২নং দিজু পথার, ১০/১৩ গ্ৰান্ট দিজু, কুলাবিল ব্লক, উজনি খামতি, ১নং পাঁচনৈ উজনি এবং ২নং পাঁচনৈ উজনি এখন জলের তলায়। এই অঞ্চলগুলো নাওবৈসা রাজস্ব সার্কলের অন্তর্গত। গ্ৰামগুলির অধিকাংশ বাড়ি জলে তলিয়ে আছে। দিজু চাপরিতে বহু মানুষ ঘরের ছাদে, আবার কেউ কেউ আশ্ৰয় নিয়েছিলেন গাছে। তবে পরে এদের নিরাপদ আস্তানায় সরিয়ে আনা হয়েছে। জেলা প্ৰশাসন এখনও পর্যন্ত কোনো ত্ৰাণ শিবির খোলেনি। লখিমপুরে বন্যায় ৪০টির বেশি গ্ৰাম ক্ষতিগ্ৰস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here