নয়াদিল্লি: শিল্পমহল যতটা আশা করেছিল, ঠিক ততটা না হলেও জিএসটি পরিষদ খুব একটা হতাশও করল না তাদের। সোনার ওপর ৩ শতাংশ কর বসল। শিল্পমহল আর্জি জানিয়েছিল ২ শতাংশ কর বসানোর জন্য। আর সোনার ক্ষেত্রে করের এই নতুন হারের জন্য জিএসটি-র চার স্তরের কর-কাঠামো পালটে হল পাঁচ স্তরের। এর আগে যে চার স্তরের কর ঠিক হয়েছে, তা হল ৫, ১২, ১৮ ও ২৮ শতাংশ।

শনিবারই বসেছিল জিএসটি (পণ্য ও পরিষেবা) পরিষদের বৈঠক। সেই বৈঠকেই সোনা, হিরে, বিস্কুট, চটিজুতো, রেডিমেড পোশাক এবং তাঁতবস্ত্রের ওপর কর নির্ধারণ করা হয়। বিড়ির ওপরেও কর নির্ধারিত হয়েছে। সিগারেটের ওপর কত কর বসানো হবে তা সম্ভবত ১১ জুন জিএসটি পরিষদের পরবর্তী বৈঠকে ঠিক হবে। উল্লেখ্য, বেশির ভাগ পণ্য ও পরিষেবার ওপর কর গত মাসেই চূড়ান্ত হয়েছে।

সূত্রের খবর, সোনার ওপর কর ৫ শতাংশের স্তরে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানান, প্রস্তাব ছিল সোনার ওপর কর ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার। শেষ পর্যন্ত ৩ শতাংশই চূড়ান্ত হল। বর্তমানে সোনার ওপর সাধারণত ২ শতাংশ কর নেওয়া হয় — ১ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ উৎপাদন শুল্ক। কোনো কোনো রাজ্য অবশ্য বেশি ভ্যাট নিয়ে থাকে।

হিরের ওপরেও ৩ শতাংশ কর বসানো হয়েছে। দামি পাথর ও গয়নার ওপরেও ৩ শতাংশ কর বসেছে।

জিএসটি পরিষদ বিড়িকে রেখেছে কর-কাঠামোর একেবারে সর্বোচ্চ স্তরে, অর্থাৎ ২৮ শতাংশের স্তরে। বিড়ির ক্ষেত্রে কোনো সেস বসছে না। তবে সিগারেটের ক্ষেত্রে যে সেস থাকবে তা অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন।

বিস্কুটের ওপর কর বসছে ১৮ শতাংশ, আর যে সব প্যাকেজড্‌ ফুড আইটেমে রেজিস্টার্ড ট্রেডমার্ক আছে, সেগুলোর ওপর কর বসছে ৫ শতাংশ।

রেডিমেড পোশাকের ওপর কর বসছে ১২ শতাংশ। তবে যে সব পোশাকের দাম হাজার টাকার কম তাদের ক্ষেত্রে লেভির হার ৫ শতাংশ। তাঁতবস্ত্রকে ৫ শতাংশ করের স্তরে রাখা হয়েছে। মানুষের তৈরি তন্তুজ পোশাককে রাখা হয়েছে ৫ শতাংশ করের স্তরে আর সিনথেটিক তন্তুজ পোশাক ১৮ শতাংশ করের স্তরে। পাটকে জিএসটি থেকে বাদ রাখা হয়েছে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন