mother
ছবি: বেবিসেন্টার.কম

ওয়েবডেস্ক: বিয়ের বেশ কয়েক বছর পরেও যখন বেঙ্গালুরুতে চাকরিরত সুপ্রিয়া জৈন এবং গৌরব এস-এর কোনো সন্তান হয়নি, তখন তাঁরা আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে লাভ করতে চেয়েছিলেন সন্তানসুখ। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে আইভিএফ পদ্ধতি শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় গৌরবের। সুপ্রিয়া জানিয়েছেন, সেই সময়ে কেবল এক ভাইল শুক্রাণুই সঞ্চিত ছিল গৌরবের।

যদিও ভাগ্য সহায়ক ছিল সুপ্রিয়ার। নিজেই জানিয়েছেন তিনি, খুব স্বাভাবিক ভাবেই যখন স্বামীর মৃত্যুর পরে চূড়ান্ত মানসিক অবসাদে রয়েছেন, তখন তাঁর কানে আসে ড. ফিরুজা পারিখের কথা। “আমি এই সব কিছুকে নিয়তির লক্ষণ বলে মেনে নিই। বুঝতে পারি, গৌরব চলে গেলেও এবং মাত্র এক ভাইল শুক্রাণু সঞ্চিত থাকলেও সন্তান সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যোগাযোগ করি ড. পারিখের সঙ্গে। তিনি প্রথমে আমার মানসিক অবস্থা খুঁটিয়ে দেখেন। তার পর জানান- দীর্ঘ এক পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে সন্তানলাভের জন্য”, বলছেন জৈন।

আরও পড়ুন: প্রেমিকার কাছে ক্ষমা চেয়ে মুম্বইকর লাগালেন ৩০০ হোর্ডিং, পুলিশ ঠুকল পাল্টা মামলা

“কিন্তু সুপ্রিয়ার গর্ভে গৌরবের শুক্রাণু সঞ্চার করে নিষেক ঘটানো সম্ভব হয়নি। ও দিকে, জমিয়ে রাখা শুক্রাণুর কার্যকারিতার মেয়াদও আসছে কমে। খুব বেশি হলে তা হয় তো আর দিন তিনেক সতেজ থাকবে। ফলে আমরা ভাইলটা খুলতেই সাহস পাচ্ছিলাম না। এই অবস্থায় আরও ঘাবড়ে যাই। ঠিক করি, এক বার সারোগেসির সাহায্য নিয়ে দেখা যাক। সেই পরিকল্পনা সফল হয়। তবে সে কথা আমি আগে সুপ্রিয়াকে জানাইনি। জানিয়েছি সন্তান পৃথিবীতে আসার পরেই”, বলছেন ড. পারিখ।

জানা গিয়েছে, স্বামীর মৃত্যবার্ষিকীতে প্রতি বছর বেঙ্গালুরুর বাইরে কোথাও চলে যান সুপ্রিয়া। এ বছরে গিয়েছিলেন বালিতে। সেখানে যখন পারিখ তাঁকে ফোন করে সুখবরটা দেন, প্রথম বিমান ধরে সুপ্রিয়া চলে আসেন মুম্বইয়ের যশলোক হাসপাতালে। পরেরটুকু নিখাদ আনন্দের বৃত্তান্ত। স্বামীর মৃত্যুর ৩ বছর পরে মা হয়েছেন তিনি, এত বাধা কাটিয়ে, এর পর সদ্যোজাতকে ‘মিরাকল বেবি’ ছাড়া আর কী বা বলবেন তিনি!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন