Indian Air Force aircraft crash

ওয়েবডেস্ক: সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সরকার জানালো, গত ২০১৪-‘১৫ বছরে ২৪টি যুদ্ধূবিমান ও ১১ টি হেলিকপ্টার মুছে গিয়েছে ভারতীয় সেনার তালিকা থেকে। একই সঙ্গে এই সময় কালে ১৪ জন পাইলটের মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

ভারতীয় জল-স্থল ও বায়ুসেনা মিলিয়ে ২০১১ থেকে যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টারে বড়োসড়ো দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭০টি। এর ফলে প্রায় ৮০জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩০টি ফাইটার। এছাড়া ৫টি সুখোই ৩০-এমকেআইযের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানও।প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুভাষ ভামরে বলেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিবিধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অ্যাভিয়েশন সেফটি অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা এড়ানোর পদ্ধতি চালু রয়েছে। এমনকী দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলি এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তবুও এই বিশাল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। যার খতিয়ান মন্ত্রী এদিন সংসদে লিখিত আকারে পেশ করেন।

দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন এত ক্ষতি, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। মন্ত্রী জানান, বায়ুযানের বহর এবং তার পরিচালন পদ্ধতি অবগত করানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ বরাবরই গ্রহণ করা হয়। মূলত দু’টি কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। একটি যান্ত্রিক ত্রুটি এবং অন্যটি যন্ত্রটিকে পরিচালনের ত্রুটি। তবে বায়ুযানগুলির পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব থাকছে বলেও মনে করা হচ্ছে। এছাড়া পাইলটদের প্রশিক্ষণগত দুর্বলতার প্রসঙ্গটিও সামনে চলে এসেছে।

সশস্ত্র বাহিনী অবিলম্বে ৪৮৪টি নতুন বায়ুযানের দাবি করেছে। কারণ চিতা বা চেতক প্রথম তাদের হাতে উঠে এসে ছিল ১৯৭০-এ। এই মান্ধাতা আমলের হেলিকপ্টারগুলিতে যেমন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বেশি তেমনই ঠিক মতো ব্যবহারেরও যোগ্য নয়। বিস্ময়ের বিষয়, এই ধরনের বায়ুযানগুলি সিয়াচেনের বরফাবৃত এলাকা পরিদর্শন এবং যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সে দিকে তাকিয়েই ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে ২০০ ‘কামভ-২২৬টি’ হালকা ব্যবহারের বাযুয়ান প্রস্তুত প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তা এখনও জোগান দিতে শুরু করেনি।এ ছাড়া ভারত সরকারের অধীনস্ত আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা এই ধরনের বিমান নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিলেও সেগুলি থেকেও এখনো পর্যন্ত উৎপাদন শুরু হয়নি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here