‘এখনই ভয়াবহ তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’, জানিয়ে দিলেন শীর্ষ ভাইরাসবিদ

    আরও পড়ুন

    খবরঅনলাইন ডেস্ক: এক শ্রেণির বিশেষজ্ঞরা করোনার সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউ নিয়ে ভয়ের কথা শুনিয়ে চলেছেন। এরই মধ্যে আবির্ভূত হয়েছে করোনাভাইরাসের ‘ডেল্টা প্লাস’ নামক নতুন একটি প্রজাতিও। ফলে ভারতে এই মুহূর্তে করোনার সংক্রমণ যখন নিম্নমুখী, তখনই তৃতীয় ঢেউয়ের ভয় জাঁকিয়ে বসেছে মানুষের মধ্যে। এর ফলে প্রচণ্ড ভাবে ব্যাঘাত ঘটছে মানসিক স্বাস্থ্যের।

    এরই মধ্যে দেশের শীর্ষ স্থানীয় কয়েক জন ভাইরাসবিদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ভারতে এখনই তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা সম্পূর্ণ রূপে ভিত্তিহীন।

    Loading videos...

    উল্লেখ্য, কিছু দিন আগেই এইমসের অধিকার্তা ডাঃ রণদীপ গুলেরিয়া জানিয়ে দিয়েছিলেন যে করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ অনিবার্য আর তা আগামী ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যেই আছড়ে পড়তে পারে। তবে এই দাবি পুরোপুরি নস্যাৎ করেছেন বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব সায়ান্সের প্রাক্তন অধ্যাপক তথা ভাইরাসবিদ ডা. বিজয়া। তিনি বলেন, “দেশে নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করবে, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিই নেই।”

    - Advertisement -

    তবে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক করে দিয়েছেন বিজয়া। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে তিনি বলেন, “মানুষকে কোভিডবিধি কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। যদি আবার আগের ভুল করা হয়, তা হলে সংক্রমণ নতুন করে বাড়তেই পারে।”

    “ডেল্টার উপপ্রজাতি নতুন করে সংক্রমণ বাড়াতে পারবে না”

    ভারতের আরও এক শীর্ষস্থানীয় জীবাণুবিদ এবং খ্যাতনামা চিকিৎসক ডা. টি জেকব জনও মনে করেন যে ভারতে এই মুহূর্তে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা নেই। তিনি তাঁর একটি কারণও দিয়েছেন।

    এই মুহূর্তে দেশে ডেল্টা প্রজাতির একটি উপপ্রজাতি পাওয়া গিয়েছে – ‘ডেল্টা প্লাস।’ অনেকের মতে এই উপপ্রজাতি থেকেও ভয়াবহ ভাবে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। কারণ ভারত ছাড়া বিশ্বের যে আটটা দেশে এই উপপ্রজাতির সন্ধান মিলেছে তার মধ্যে শুধুমাত্র ব্রিটেন ছাড়া সর্বত্রই করোনা সংক্রমণ ক্রমশ নিম্নমুখী।

    ডা. জনও এমনটাই মনে করেন। তিনি বলেন, “ডেল্টা এবং ডেল্টা প্লাস একই রকম প্রজাতি, একটু তফাত রয়েছে। ফলে এর থেকে নতুন করে সংক্রমণ বাড়বে না। জুলাই শেষ হওয়ার আগেই এই অতিমারি একটি স্থানীয় রোগে পরিণত হয়ে যাবে। সংক্রমণের হার ব্যাপক ভাবে কমে যাবে। তার পর সে আরও দুর্বল হবে।”

    ‘এ বছরই করোনামুক্ত হবে ভারত’

    আশ্বাসের সুরে জন আরও বলেছেন যে, “টিকাকরণ জোরকদমে চললে এই বছরই করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাবে দেশ।”

    জনের ব্যাখ্যা, দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রচুর সংখ্যক মানুষ নিজের অজান্তে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা ছিলেন উপসর্গহীন। এ ছাড়া জনসংখ্যার আরও একটা বড়ো অংশ আক্রান্ত হলেও পরীক্ষা করাননি। ফলে যত সংক্রমণ রিপোর্ট করা হয়েছে, আদতে মূল সংক্রমণ ঘটেছে আরও অনেক বেশি। ফলে প্রচুর মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি হয়ে গিয়েছে। এই কারণেই এক্ষুনি নতুন করে সংক্রমণ বাড়বে না বলে মনে করেন জন।

    এমনিতেই বিভিন্ন ঢেউয়ের মধ্যে কম থেকে ৫-৬ মাসের একটা ব্যবধান থাকে। এর মধ্যে প্রচুর সংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়া গেলে করোনা পরিস্থিতি আর খারাপ হবে না বলেই সাফ জানিয়েছেন ভেলোর ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজের ক্লিনিক্যাল ভাইরোলজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা. টি জেকব জন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর