cattle

ওয়েবডেস্ক: কী হল? খবরটা ঠিক বিশ্বাস হতে চাইছে না?

তা হলে একটু চোখ রাখা যাক চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারির খাতে। মনে করতে পারছেন কি, ওই বৃহস্পতিবারে দেশের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি গবাদি পশুর উন্নয়নকল্পে এ বারের বাজেটে কত টাকা বরাদ্দ করেছেন?

পাক্কা ১০,০০০ কোটি ভারতীয় টাকা! যার মধ্যে ২০০ কোটি আবার বিশেষ ভাবে সংরক্ষিত হয়েছে গবাদি পশুর প্রজননের খাতে। যাতে উন্নত প্রজাতির গবাদি পশুদের পরস্পরের মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে জন্ম সুনিশ্চিত করা যায় দুগ্ধবতী গাভীর। সেই দুধ এবং দুধ থেকে তৈরি হওয়া হরেক উপাদান দেশের এবং বিদেশের বাজারে কেনাবেচা করে যে ভালো মতো একটা অর্থ উপার্জন করে, আশা করি তা কোনো অজানা বিষয় নয়।

ফলে, দুগ্ধবতী গাভীরা যাতে সুরক্ষিত থাকে, তার জন্য আধার কার্ডের মতো এক বিশেষ ১২ ডিজিটের কার্ড চালু করতে চলেছে কৃষি মন্ত্রক। জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে চালু হওয়া পশু সঞ্জীবনী প্রকল্পের হিসসা হিসাবেই দুগ্ধবতী গাভীদের এই বিশেষ কার্ড দেওয়ার বন্দোবস্ত চলছে।

জানা গিয়েছে, আবহাওয়া-সুরক্ষিত, অনেকটাই কম খরচে তৈরি হওয়া এই কার্ডে থাকবে গাভীদের প্রজাতি, বয়স, লিঙ্গ, উচ্চতা এবং অন্যান্য শারীরিক তথ্য। কার্ডটি এমন ভাবেই তৈরি করা হবে যাতে তা রোদে-জলে নষ্ট হয়ে না যায়! খবর বলছে, এ রকম একটি কার্ড তৈরি করতে খরচ পড়বে ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা মতো।

কিন্তু এই কার্ড দুগ্ধবতী গাভীদের ঠিক কী সুরক্ষা দেবে?

সরকারের দাবি, যে ভাবে দেশে গরুপাচারের সংখ্যা এবং গরুদের উপর অত্যাচার বাড়ছে, তার হাত থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম হবে এই কার্ড। কেন না, এই কার্ডে শারীরিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে যে ১২ ডিজিটের ইউআইডি-টি তৈরি হবে, তার সাহায্যে গাভীটি কোথায় আছে, তা সহজেই খুঁজে বের করা যাবে। পরিণামে গরুপাচারকারীরা বিশেষ সুবিধা করতে পারবে না বলেই সরকারের তরফে অভিমত।

বেশ কথা! অ-বোলা পশুরা অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তি পাক- কে না তা চান! শুধু একটা প্রশ্নই ভাবিয়ে তুলছে!

দেশ জুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের আধার কার্ডের তথ্য যেমন চাউর হয়ে পড়েছে হাটে-বাজারে, এ ক্ষেত্রেও তা হবে না তো? হলে কিন্তু দুগ্ধবতী গাভীদের বিপদ বাড়বে বই কমবে না!

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন