নয়াদিল্লি: অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ভারতে ৫জি পরিষেবার (5G services) সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। শনিবার এ কথা জানিয়ে টুইট করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় ব্রডব্যান্ড মিশন (National Broadband Mission)।

এমনিতে দেশে ৫জি পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। এ দিন মিশনের তরফে টুইটারে লেখা হয়েছে, “ভারতের ডিজিটাল রূপান্তর এবং সংযোগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৫জি পরিষেবাগুলি চালু করবেন। এশিয়ার বৃহত্তম প্রযুক্তি প্রদর্শনী ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেসে এই পরিষেবার সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী”।

ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস (IMC) হল এশিয়ার বৃহত্তম টেলিকম, মিডিয়া এবং প্রযুক্তি ফোরাম। টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ (DoT) এবং সেলুলার অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (COAI) যৌথ ভাবে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ, ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছিলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে ৫জি টেলিকম পরিষেবা সূচনার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। দেশের ৮০ শতাংশ এলাকাকে এর আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

৫জি চালু করার জোর প্রস্তুতি

দেশের বৃহত্তম টেলিকম সংস্থা জিও, এয়ারটেল এবং ভোডাফোন দেশজুড়ে ৫জি পরিষেবা প্রদানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে জোরকদমে। টেলিকম পরিষেবা সরবরাহকারী (TSP) ভারতী এয়ারটেল, রিলায়েন্স জিও, আদানি ডেটা নেটওয়ার্কস, এবং ভোডাফোন আইডিয়া সাম্প্রতিক নিলামে স্পেকট্রামের বরাত জিতেছে। ইতিমধ্যেই পরিষেবা প্রদানকারীদের কাছে স্পেকট্রাম অ্যাসাইনমেন্ট লেটার জারি করা হয়েছে। এর মানে হল পরিষেবা প্রদানকারীরা প্রস্তুত হয়ে গেলে পরিষেবাটি চালু করতে পারে।

জিও-র তরফে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, দীপাবলির সময়ই ৫জি পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে। গত মাসে বার্ষিক সাধারণ সভার অনুষ্ঠানে ৫জি পরিষেবার চালু করার কথা ঘোষণা করে রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio)। সংস্থার চেয়ারম্যান মুকেশ অম্বানি বলেন, “আমি ঘোষণা করছি, জিও ৫জি-র মাধ্যমে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে আমরা ১০ কোটি বাড়িতে অতুলনীয় ডিজিটাল অভিজ্ঞতা এবং স্মার্ট হোম সলিউশন পৌঁছে দেব”।

তাঁর কথায়, জিও ৫জি পরিষেবাগুলি প্রাথমিক ভাবে দীপাবলি থেকেই চালু হয়ে যাবে। আগামী দু’মাসের মধ্যে, প্রাথমিক ভাবে দেশের চারটি শহরে এই পরিষেবা চালু হবে। এই শহরগুলির মধ্যে রয়েছে দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই এবং কলকাতা। প্রাথমিক ভাবে শুরু হওয়ার পর দেশের সমস্ত শহর এবং গ্রামাঞ্চলে তা চালু হতে বছরখানেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মুকেশ বলেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত শহর, শহরতলি এবং গ্রামে পৌঁছে যাবে জিও-র ৫জি পরিষেবা।

লাভের অংক

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫জি পরিষেবার ফলে ভারতের সুবিধা হবে অনেক। মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরের প্রতিনিধিত্বকারী একটি গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে ৫ জি পরিষেবার জন্য ভারতীয় অর্থনীতিতে ৩৬ লক্ষ কোটি টাকার (৪৫৫ বিলিয়ন ডলার) লাভ হতে পারে।

গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশনস (GSMA)-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে মোট চেলিকম সংযোগের এক তৃতীয়াংশ দখল করবে ৫জি। ২জি এবং ৩জি-র অংশীদারিত্ব হ্রাস পেয়ে হবে মাত্র ১০ শতাংশ। অন্তত টেলিকম সংস্থাগুলির পরিকাঠামো এবং গ্রাহক চাহিদার কথা বিবেচনা করেই এমনটা অনুমান। সরকারের লক্ষ্য, প্রাথমিক ভাবে দেশের ১৫টি শহরে ৫জি পরিষেবা শুরু করা। এর পর ধীরে ধীরে দেশ জুড়ে শুরু হবে পরিষেবা। পূর্ণ মাত্রায় দেশে ৫জি চালু হলে খরচ অনেক কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন