এনটিপিসি-র কয়লাখনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-আন্দোলনের জেরে পুলিশের গুলিতে ৬ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হল ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। এনটিপিসি-র জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গত দশ বছর ধরে আন্দোলন চলছে ওই অঞ্চলে।

গত ১৭ মে এলাকার চিরুডিহি গ্রামে কয়লাখনি প্রকল্পের কাজ শুরু করে দেয় এনটিপিসি। ঘটনার প্রতিবাদে নতুন করে আন্দোলন শুরু করেন গ্রামবাসীরা। দু সপ্তাহ আগে থেকে ররকাগাঁওতে স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক নির্মলা দেবীর নেতৃত্বে একটানা ধরনা-অবরোধে বসেন ৩০০-৪০০ গ্রামবাসী। এতে যন্ত্রপাতি নিয়ে খনিতে যেতে অসুবিধায় পড়ছিলেন এনটিপিসি কর্মীরা। শনিবার ভোর চারটেয় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিতে চায়। প্রতিরোধ করেন গ্রামবাসীরা। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে আহত হন বেশ কয়েকজন মহিলা। পুলিশ বেদম মারধর করে গ্রামবাসীদের। এরপর পুলিশ আটক করে বিধায়ক নির্মলাদেবীকে। তাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দু’জন পুলিস অফিসারকে মারধর করে গ্রামবাসীরা মুক্ত করেন নির্মলাদেবীকে। দুজন অফিসারই গুরুতর আহত হন। গ্রামবাসীদের ছোড়া পাথরে আহত হন আরও বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী। তখনই গুলি চালাতে শুরু করে পুলিশ। মৃত্যু হয় ছ’জন গ্রামবাসীর।

পাকরি বারওয়াডিহি কয়লা ব্লকটি এনটিপিসি-র অধিকারে রয়েছে। এতে কয়লা রয়েছে ১.৬ বিলিয়ন অর্থাৎ ১৬০ কোটি টন। এটিই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সংস্থাকে দেওয়া সবচেয়ে বড় কয়লাখনি। গ্রামবাসীদের দাবি, এই খনি প্রকল্প হলে এলাকার ৩৬টি গ্রামের উর্বর কৃষিজমি ধ্বংস হয়ে যাবে। ওই জমিতে এখন গম, আখ, বিভিন্ন মশলা ও অন্যান্য শস্য চাষ হয়।

২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত এই নিয়ে তিন বার এই অঞ্চলে গ্রামবাসীদের আন্দোলনে গুলি চালাল পুলিশ। গত দু বছরে এলাকার চাষিরা দু’টি ‘কয়লা সত্যাগ্রহ’ করেছে। তাতে তারা কোনো যন্ত্র ছাড়া হাত দিয়ে কয়লা তুলে ব্যবসায়ীদের বিক্রি করেছে। উপার্জিত অর্থ জমা দিয়েছে গ্রামসভায়। এটাই বিকল্প খনি প্রকল্পের মডেল, দাবি এলাকার কৃষকদের।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন