smoking is injurious to health in cigarette packet

নয়াদিল্লি: স্বাস্থ্য মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছিল সিগারেট প্যাকেটের গায়ে ৮৫ শতাংশ জায়গা জুড়ে থাকতে হবে সতর্কীকরণ ছবি। মন্ত্রকের এ হেন নির্দেশের পর বিভিন্ন রাজ্য থেকেই সিগারেট প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির তরফে অসংখ্য মামলা দায়ের হয়েছে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের উচ্চ আদালতে। সুপ্রিম কোর্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করে কর্ণাটক হাই কোর্টকে দায়িত্ব দিয়েছিল সেই সমস্ত মামলা নিষ্পত্তি করতে। গত ১৫ ডিসেম্বর কর্ণাটক হাই কোর্ট একটি রায়ে জানায়, ৮৫ নয়, ৪০ শতাংশ জায়গা জুড়ে থাকলেও চলবে এই ছবি। সমাজকর্মীরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেলে সর্বোচ্চ আদালত এ ব্যাপারে কর্ণাটক হাই কোর্টের রায়ে রাশ টানল।

সুপ্রিম কোর্ট একটি ১৩ পাতার রায়ে জানিয়েছে, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতা এক জন নাগরিকের কাছে প্রাথমিক বিষয়। তিনি যা থেকে নিজের ভালো-মন্দের বিচার করতে পারেন সেটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। হতে পারে এই ক্ষতি শব্দটি খুবই ছোটো, কিন্তু ঠিক যে যে কারণের জন্য এই স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে সেগুলিকে মানুষের কাছে আরও বড়ো করে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে যথেষ্ট খুশি বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রক।সরকারি পরিসংখ্যান মতে, প্রতি বছর গড়ে নয় লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটে তামকসেবন জনিত রোগের শিকার হয়ে।

সরকার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, একটি সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, সিগারেট প্যাকেটের ওই সতর্কীকরণ দেখে দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ ধূমপায়ী সিগারেট ছেড়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করছেন।

উল্লেখ্য, ওই সতর্কীকরণ সিগারেট প্যাকেটের ২০ শতাংশ জায়গা জুড়ে থাকত। সিগারেট অ্যান্ড আদার টোব্যাকো প্রডাক্টস (প্যাকেজিং অ্যান্ড লেবেলিং) অ্যামেন্ডমেন্ট রুল ২০১৪-এর প্রয়োগ করা হয় ১ এপ্রিল, ২০১৬ সালে। সিগারেট প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির দাবি, বিশ্বের আর কোনো দেশে এই সতর্কীকরণ নিয়ে এত কড়াকড়ি নেই। সর্বত্রই গ্রাফিক হেলথ ওয়ার্নিংয়ের গড় মাপ মাত্র ৩০ শতাংশ।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতি প্রায় ৪০ মিনিটের শুনানিতে সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে জানায়, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সরকারি বিধিতে এ ভাবে কাটছাঁট করা মোটেই শুভলক্ষণ নয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here