modi expressway

ওয়েবডেস্ক: রবিবার বিশাল বড়ো রোড-শো করে দিল্লি-মেরঠ এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম ভাগের (ফার্স্ট ফেজ) উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লি, মেরঠ এবং ওই দুই শহরের সন্নিহিত অঞ্চলের মানুষ ভাবতে পারেন দিল্লি থেকে মেরঠ বা মেরঠ থেকে দিল্লি যাওয়া এখন কতটা সুবিধার হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা তুলে ধরলে মানুষের সেই আশায় জল পড়ে যেতে বাধ্য।

৮২ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ের মাত্র ৮.২ কিমির উদ্বোধন করেছেন মোদী। অর্থাৎ এখনও সড়কের ৯০ শতাংশ যান চলাচলের উপযুক্ত নয়। অথচ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোদী অনেক কিছু বলেছিলেন। দেশের কাছে এই রাস্তা উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। এটা জানলে আপনি আরও চমকে যাবেন যে এই সড়কের ৬৯ শতাংশে কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মেরঠের দিকে কিছু অংশে এখনও জমি অধিগ্রহণই করা সম্ভব হয়নি।

দিল্লি-মেরঠ এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে মোট বরাদ্দ সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৮৪১ কোটি টাকা খরচ করে যে অংশটি তৈরি হয়েছে তার উদ্বোধন করেছেন মোদী। এই অংশটি দিল্লির নিজামুদ্দিন ব্রিজ থেকে শুরু করে শেষ হচ্ছে উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে। বাকি অংশটির জন্য সাধারণ মানুষকে এখনও সেই পুরোনো যানজটযুক্ত জাতীয় সড়কের ওপরেই ভরসা করতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোদী দাবি করেছেন, দেড় বছরের রেকর্ড সময়ে এই প্রথম অংশটির কাজ শেষ হয়েছে। অথচ মোদী নিজেই এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন ২০১৫-এর ডিসেম্বরে। অর্থাৎ আড়াই বছর কেটে গিয়েছে। মোট চারটে অংশে এই এক্সপ্রেসওয়ে হবে। এর মধ্যে কাজ বাকি রয়েছে তিনটে অংশের।

এই প্রকল্পের ডিরেক্টর আরপি সিংহ বলেন, এখনও পর্যন্ত গোটা সড়কের মাত্র ৩১ শতাংশ অংশের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রথম অংশের কাজ শেষ। দ্বিতীয় অংশের ১৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তৃতীয় এবং চতুর্থ অংশে যথাক্রমে ৬০ এবং তিন শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।”

অর্থাৎ, দেশবাসীকে যে সড়ক উৎসর্গ করলেন মোদী, সব মিলিয়ে তার মাত্র সাড়ে ২৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। সিংহ আরও বলেন, “চতুর্থ অংশে এখনও জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে বিভিন্ন জায়গায়।”

কবে শেষ হবে এই সড়কের কাজ। লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করির দাবি, সামনের বছর মার্চের মধ্যেই এই সড়ক পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে। যদিও এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েক জন আধিকারিক মনে করেন, মাত্র ন’মাসের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করা কার্যত অসম্ভব। সিংহ বলেন, “সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করা খুব সমস্যার। দেখা যাক কী হয়!”

সৌজন্য: দ্য ওয়্যার

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here