rajasthan duststorm

ওয়েবডেস্ক: দানব ধুলোঝড় হত্যালীলা চালাল সমগ্র উত্তর ভারতে। তার প্রভাবে উত্তরপ্রদেশে মৃত্যু হল ৪২ জনের। রাজস্থানে ৩১টি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই ধুলোঝড়। উত্তরাখণ্ডে কুমায়ুঁতে প্রাণ গিয়েছে দু’ জনের।

বুধবার সন্ধে থেকে রাত পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, পঞ্জাব এবং উত্তরাখণ্ডে তাণ্ডব চালিয়েছে ধুলোঝড়। জায়গায় জায়গায় পড়ে গিয়েছে গাছ, উপড়ে গিয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি।

উত্তরপ্রদেশের সব থেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলায়। এর মধ্যে আগরা জেলার অবস্থা সব থেকে ভয়াবহ। সেখানে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৩৬ জনের। বিজনোর জেলায় মারা গিয়েছেন তিন জন, সাহারানপুরে দু’ জন এবং বরেলিতে এক জন মারা গিয়েছেন।

দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইতিমধ্যেই প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ঝড়বৃষ্টি তাণ্ডব চালিয়েছে উত্তরাখণ্ডেও। কুমায়ুঁ অঞ্চলে অন্তত দু’ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

অন্য দিকে রাজস্থানের বিভিন্ন প্রান্তে প্রবল ধুলোঝড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩১ জন। আহত একশোরও বেশি। বুধবার বিকেল থেকে রাজ্যের ভরতপুর, আলোয়ার, ঢোলপুর, বিকানের এবং ঝুনঝুনু জেলায় তাণ্ডব চালায় ধুলোঝড়।

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ভরতপুর জেলাতে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। আলোয়ারে চার, ঢোলপুরে ন’ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক জন করে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে ঝুনঝুনু এবং বিকানেরে। ঝড়ের তাণ্ডবে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলোয়ার জেলা। জেলায় অন্তত একশোটি গাছ পড়ে গিয়েছে। দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির ওপরে গাছ পড়ে বিস্তর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও।

আলোয়ার জেলার বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার ডিপি সিংহ বলেন, “প্রায় এক হাজারটা বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় শহরের অধিকাংশ এলাকা এখন বিদ্যুৎহীন। বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে অন্তত দু’টো দিন তো লাগবেই।” ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার। ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া।

উত্তরাখণ্ডে প্রবল বৃষ্টির জন্য সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে চারধাম যাত্রা। ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং দিল্লির জনজীবনও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here