rape protest

সুরাত: শরীরে ৮৬ ক্ষতচিহ্ন নিয়ে খুন হওয়া ধর্ষিতা নাবালিকার পরিচয় নিয়ে এখনও বিভ্রান্তি। অন্ধ্রপ্রদেশের এক দম্পতি ওই নাবালিকাকে তাঁদের মেয়ে দাবি করলেও সেই ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

গত বছর অক্টোবরে নিজের দ্বাদশ জন্মদিনের পরেই স্কুল যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে যায় অন্ধ্রের প্রকাশম জেলার এক নাবালিকা। সুরাতের মৃত নাবালিকা যে তাঁদের মেয়েই সেই ব্যাপারে কার্যত নিশ্চিত তাঁর বাবা।

কিন্তু ওই নাবালিকার পরিচয়ের ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না তদন্তকারীরা। গত ৬ এপ্রিল সুরাতের একটি অঞ্চল থেকে উদ্ধার হয় ওই নাবালিকার ক্ষতবিক্ষত দেহ।

ওই নাবালিকার ডান হাতে একটি তিল রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাবা। যদিও সুরাত পুলিশের দাবি, তার ডান হাতে কোনো তিল পাওয়া যায়নি। তাই আপাতত তার পরিচয় নিয়ে সন্দিহান পুলিশ। নাবালিকার রক্তের নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

ময়নাতদন্তে জানা গিয়েছে, গোপনাংশ ছাড়াও তাঁর শরীরে সব মিলিয়ে ৮৬টি ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, তাকে খুন করার আগে অন্তত আট দিন ধরে তার শরীরে ধর্ষণের পাশাপাশি নানা রকম অত্যাচার চালানো হয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের ওই দম্পতি ওই নাবালিকাকে নিজেদের মেয়ে দাবি করলেও পুলিশ তাদের তদন্তের জায়গা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই মুহূর্তে সারা দেশে প্রায় এক হাজার নিখোঁজ শিশুর একটি তথ্য হাতে পেয়েছে সুরাত পুলিশ। অন্ধ্র ছাড়াও ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গকেও তদন্তের আওতায় রেখে পুলিশ। এই নাবালিকা যে এই তিনটে রাজ্যের একটির হবেই সেটা নিশ্চিত পুলিশ।

সুরাত ক্রাইম ব্রাঞ্চের এসিপি আরআর সরবইয়া বলেন, “আমরা এই মুহূর্তে ৩৭টি নিখোঁজ মেয়ের সন্ধান পেয়েছি যাদের সঙ্গে এই মৃত নাবালিকার অনেক মিল রয়েছে। আমরা তাদের একে একে ফোন করছি। এমনই একটি ফোন করা হয়েছিল অন্ধ্রের সেই দম্পতিকে।”

একজন তদন্তকারী বলেন, “অন্ধ্রের ওই ব্যক্তিকে যখন আমরা এই নাবালিকার দেহটি দেখালাম, উনি তখনই বললেন সে তাদেরই মেয়ে। কিন্তু সমস্যা তৈরি হল ডান হাতে তিলের দাবিটি নিয়ে। ওই ব্যক্তি তাঁর মেয়ের হাতে তিলের কথা দাবি করলেও আমরা সেটা খুঁজে পাইনি।”

আপাতত পুলিশের একমাত্র ভরসা ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট, যেটি আগামী চার দিনের মধ্যে আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here