indira gandhi , p n haskar

ওয়েবডেস্ক: আগামী সপ্তাহেই প্রকাশিত হতে চলেছে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের নতুন বই ‘ইন্টারউইন্ড লাইভস’। নতুন ওই বইটিতে রমেশ তুলে ধরেছেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অবিসংবাদী কমিউনিস্ট নেতা পি এন হাসকরের ভূমিকার বিশদ তথ্য। যেখানে তিনি হাসকরকে ইন্দিরার শাসকজীবনে ‘সূত্রধর’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

রমেশের মতে, পরাধীন ভারতে হাসকর ছিলেন একজন শক্তিশালী আমলা। ইন্দিরার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় ১৯৩৮ সালে। ১৯৬৭-১৯৭৩ সাল, এই পাঁচ বছরে ইন্দিরার অসংখ্য রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কাজে হাসকরের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বাইরেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছিলেন ইন্দিরার রাজনৈতিক গুরু। কিন্তু ইন্দিরা-তনয় সঞ্জয় গান্ধীর মারুতি প্রকল্প নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধমতের প্রভাব পড়ে ইন্দিরার সঙ্গে সম্পর্কে। হাসকর ইন্দিরাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, মারুতির মতো ছোটো ব্যক্তিগত গাড়ি তৈরির প্রকল্পের বদলে গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।

মারুতি প্রকল্পের বিরোধিতায় হাসকর প্রবল ভাবে সরব হতে শুরু করেন। কিন্তু সন্তানের কথা মাথায় রেখে সে বার আর হাসকরের মতে সায় দিতে পারেননি স্বয়ং ইন্দিরা। ওই সময়েই ইন্দিরার আরও দুই নির্ভরযোগ্য পরামর্শদাতা মোহন কুমারমঙ্গলম এবং পীতাম্বর পন্তের মৃত্যু হলে তিনি অসহায় বোধ করতে শুরু করেন। রমেশ লিখেছেন, মারুতি প্রকল্প নিয়ে ইন্দিরা তাঁর মতে সহমত না হওয়ায় হাসকর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য প্ল্যানিং কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যানপদে তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন ইন্দিরা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বইটি শুধু মাত্র একটি আত্মজীবনীর উপর আধারিত বিশ্লেষণী নয়। হাসকর কে, কী ভূমিকা ছিল তাঁর, এমন প্রচুর তথ্য জোগাড় করেছেন রমেশ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ হোক বা ব্যাঙ্কের জাতীয়করণ, ইন্দিরার দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী অসংখ্য সিদ্ধান্তে হাসকরের ভূমিকার কথা বিশ্লেষণ করেছেন রমেশ।

১৯৪২-৪৩ সালে নাগপুর সিপিআইয়ের সম্পাদকপদে থাকা হাসকর তুলে নিয়ে আসেন ১৮ বছরের সিপিআই নেতা এ বি বর্ধনকে, যিনি পরে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। আবার হাসকরই সেই ব্যক্তি, যিনি কৃষি গবেষণার জন্য পৃথক বিভাগ তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। যে বিভাগের প্রথম সেক্রেটারি হন এম এস স্বামীনাথন। এ ধরনেরই অসংখ্য জানা-অজানা তথ্য উঠে এসেছে রমেশের এই বইয়ে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here