গুয়াহাটি : এ বার জাতীয় সংগীত চলাকালীন উঠে না দাঁড়ানোয় পাকিস্তানি আখ্যা দেওয়া হল এক জন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষকে।

ঘটনা অসমের গুয়াহাটির একটি মাল্টিপ্লেক্সের। চলচ্চিত্র শুরুর আগে বাজানো হয়েছিল জাতীয় সংগীত। সকলে উঠে দাঁড়ালেও দাঁড়াতে পারেননি আরমান আলি। তাঁকে বসে থাকতে দেখে পেছন থেকে পাকিস্তানি বলে গালাগালি করে অন্য দর্শকরা।

খবর অনুযায়ী জাতীয় সংগীত শেষ হওয়া মাত্রই দু’ জন দর্শক বলতে শুরু করে, “সামনে এক পাকিস্তানি বৈঠা হ্যায় (সামনে এক জন পাকিস্তানি বসে আছে)।

৩৬ বছরের আরমান বলেন, মানুষরা ভেবেও দেখল না যাকে পাকিস্তানি বলে মন্দ কথা শোনানো হচ্ছে সে আদৌ উঠে দাঁড়াতে পারে কিনা। এ ভাবেই হয়ত সুস্থ স্বাভাবিক মানুষরা জাতীয় সংগীতের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা জানায়।

আরমান বলেন, এই সব শোনার পর পেছনে তাকাতেই তারা বিশ্রী মুখভঙ্গি করে তাকাতে থাকে।

আরমান আলি শিশু সারথী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রধান। সংস্থাটি বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য কাজ করে। তিনি বলেন, এই হল সমাজের চিত্র। তিনি ঠিক করেছেন প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি লিখে বিষয়টি জানাবেন।

উল্লেখ্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্টে একটা আবেদন করা হয়। তাতে প্রেক্ষাগৃহে জাতীয় সংগীত চলাকালীন উঠে দাঁড়ানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান কী তা জানতে চাওয়া হয়। তার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপক মিশ্রা আর বিচারপতি আর ভানুমতি এই ব্যাপারে রায় দেন। তাঁদের যুগ্ম বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা চলাকালীন বা তথ্যচিত্রের অঙ্গ হিসেবে জাতীয় সংগীত চললে তখন দর্শকদের উঠে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। আবার ২০১৬ সালে নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টই নির্দেশ দিয়েছিল চলচ্চিত্র শুরুর আগে দেশের সব ক’টি প্রেক্ষাগৃহে জাতীয় সংগীত বাজানো বাধ্যতামূলক। সেই সময় সব দর্শকেই উঠে দাঁড়াতে হবে। প্রতিবন্ধীদের দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক নয় বলেও জানানো হয়েছিল ওই রায়ে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here