marital rape

দিল্লি : ‘#মিটু’ ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটা মঞ্চ হয়ে উঠেছে। দেশবিদেশের বহু মানুষ তাতে শামিলও হয়েছেন। কিন্তু একটা বড়ো ব্যাপার হল, অনেক বিবাহিত মহিলার ওপর এই একই অপরাধ দিনের পর দিন হয়ে চলেছে। কিন্তু তা হচ্ছে আইনের মোড়কে। বন্ধ ঘরের ভেতরে। দিনের পর দিন কত মহিলা ইচ্ছার বিরুদ্ধে অত্যাচারিত হচ্ছেন তাঁর স্বামীর হাতেই। সঙ্গে মানসিক আর শারীরিক অত্যাচার। সেই খবর ক’ জন রাখে।

তেমনই একটা ঘটনা দিল্লির এক দম্পতির। বিয়ের ১৬ বছর পরে স্বামী বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ, স্ত্রী তাঁর আর তাঁর পরিবারের প্রতি নজর দেন না, যত্ন করেন না। তাঁদের মেয়ের খেয়াল রাখেন না। তা ছাড়া তাঁর আচরণও ঠিক নয়। তা তিনি এই বিয়ে ভেঙে দিতে চাইছেন। উলটো দিকে ওই মহিলার বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বামীর করা সব ক’টি অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি। এই মামলার রায়ে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ দেখে দিল্লির একটি পারিবারিক আদালত ওই ব্যক্তির বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত বলেছে, বিবাহ যৌন নির্যাতন বা অত্যাচার করার কোনো আইনসিদ্ধ উপায় নয়। স্ত্রীর সম্মতি ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স করা যাবে না। স্বামী জোর করে তাঁর ইচ্ছা, চাহিদা স্ত্রীর ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন না। এই রকম চাপ স্ত্রীর মন, শরীর, আত্মার ওপর চাপ সৃষ্টি করে, ক্ষতি করে। তা হতে দেওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন : যৌন নির্যাতিতদের ৬০ শতাংশই শিশু : প্রকাশিত হল গবেষণায়

মহিলা আত্মপক্ষ সমর্থনে এ-ও বলেছেন, কেবলমাত্র পরিবার আর তাঁদের সম্মানের কথা ভেবেই তিনি এত দিন চুপ করে সব অত্যাচার সহ্য করেছেন। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কাউকে কিছু জানতে দেননি। কিন্তু এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। স্বামী তাঁর ওপর শারীরিক, মানসিক ও যৌন নিপীড়ন করেন আর ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করেন।

তিনি তাঁর মা, ভাই, বোন আর ভগ্নীপতি কাছে লেখা চিঠিতে সবটা জানিয়েছিলেন। বিভিন্ন চিঠিতে স্বামীর অত্যাচারের নানান প্রসঙ্গ জানানো হয়েছিল। চিঠিতে মহিলা বলেছেন, নানা রকম কৃত্রিম উপায় অবলম্বন করে স্বামী যৌন অত্যাচার করেন।অপ্রাকৃতিক উপায়ে ইন্টারকোর্স করার নানা রকম চেষ্টা করেন। তা মেনে নিতে না পারলেই শারীরিক অত্যাচার করেন। ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। মুখের খাবারও টেনে ফেলে দেন। দিনের পর দিন না খেয়ে কাটান তিনি।

এই সব কিছুর প্রেক্ষিতে আদালত একে ‘ম্যারিট্যাল রেপ’ অর্থাৎ ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ আখ্যা দিয়েছে। তার সঙ্গে এই ঘটনাকে সম্মান, শ্রদ্ধা আর আত্মমর্যাদার অবমাননা বলে ব্যাখ্যা করেছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here