দেশে সক্রিয় কোভিডরোগী নেমে এল ৮ লক্ষে, সংক্রমণের হারও নামল ৮ শতাংশের নীচে

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দেশে বেশির ভাগ জায়গাতেই ব্যাপক উন্নতি হয়েছে কোভিড-পরিস্থিতির। আর সেটাই ধরা পড়ছে দেশের সামগ্রিক করোনাচিত্রে। সক্রিয় রোগীর সংখ্যা নামতে নামতে প্রায় ৮ লক্ষে চলে এসেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে শনিবার তা ৭ লক্ষের ঘরে ঢুকে যেতে পারে।

এই তথ্যতেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে ভারত করোনার প্রথম চূড়া পেরিয়ে গিয়েছে। যদিও উৎসবের মরশুমে সতর্কতা না মেনে চললে নভেম্বর-ডিসেম্বরে গিয়ে সেটা ফের বেড়ে যেতেও পারে। তবে বর্তমানে ভারতের ছবিটা বেশ আশাব্যঞ্জক।

নতুন করে আক্রান্ত

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Ministry of Health and Family Welfare) তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৩ লক্ষ ৭০ হাজার ৪৬৮। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩ হাজার ৩৭১ জন।

ভারতে বর্তমানে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৮ লক্ষ ৪ হাজার ৫২৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যাটি ৭৮৬২। দেশে এখন মোট রোগীর মধ্যে মাত্র ১০.৯১ শতাংশের চিকিৎসা চলছে।  

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছিল ১০ লক্ষ ১৭ হাজার ৭৫৪-তে। নাটকীয় ভাবে, তার পরের দিন থেকেই সক্রিয় রোগী কমতে শুরু করে দেশে। অর্থাৎ, গত ২৯ দিনে ভারতে ২ লক্ষ ১৩ হাজার ২২৬জন সক্রিয় রোগী কমেছে।

সুস্থতা কিছুটা কম

বৃহস্পতিবার ৮১ হাজারের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। সেই তুলনায় শুক্রবার সুস্থ হওয়া মানুষের সংখ্যাটা কিছুটা কম। তবে নতুন আক্রান্তের থেকে সুস্থতার সংখ্যা এ দিনও অনেকটাই বেশি ছিল, যা এখনও স্বস্তিই দিচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৭০ হাজার ৩৩৮ জন। এর ফলে এখনও পর্যন্ত ভারতে মোট সুস্থ হওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৪ লক্ষ ৫৩ হাজার ৭৭৯। দেশে সুস্থতার হার বর্তমানে ৮৭.৫৬ শতাংশ।

তিনটে রাজ্য নিয়ে এখন চিন্তা বেশি

ভারতের বেশির ভাগ রাজ্যেই কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রাজ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ২২৬ জন। সেপ্টেম্বরে এই মহারাষ্ট্রেই দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজারে পৌঁছে গিয়েছিল। এ ছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশ (৪,০৩৮) এবং তামিলানাড়ুতেও (৪,৪১০) কোভিডের গ্রাফ নীচে নামছে ক্রমশ।

যে তিনটে রাজ্যে এখন চিন্তার কোনো অন্ত নেই, সেগুলি হল কর্নাটক, কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গ। গত ২৪ ঘণ্টায় এই তিন রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন যথাক্রমে ৮,৪৭৭ জন, ৭,৭৮৯ জন এবং ৩,৭২০ জন। তবে কেরলের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যায় কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ফের একদিনে মৃত প্রায় ন’শো

গত কয়েক দিন ধরে মৃতের সংখ্যাটা অনেকটাই কমে গিয়ে ৬০০-এর ঘরে পৌঁছে গিয়েছিল। এ দিন ফের তা বেড়ে ৯০০-এর কাছাকাছি চলে গেল।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে মৃত্যু হয়েছে ৮৯৫ জনের। দেশে এখনও পর্যন্ত কোভিডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ১২ হাজার ১৬১ জন। দেশে মৃত্যুহার এখন অনেকটাই কমে ১.৫২ শতাংশে এসে ঠেকেছে।

সংক্রমণের হারে স্বস্তির পতন

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে মোট ১০ লক্ষ ২৮ হাজার ৬২২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ফলে শুক্রবার ভারতে দৈনিক সংক্রমণের হার ছিল ৬.১৬ শতাংশ। দৈনিক সংক্রমণের হার বৃহস্পতিবারের থেকে কিছুটা বাড়লেও সামগ্রিক সংক্রমণের হার আরও কিছুটা কমেছে।

ভারতে এখনও পর্যন্ত মোট ৯ কোটি ২২ লক্ষ হাজার ৫৪ হাজার ৯২৭টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর বিপরীতে এখন মাত্র ৭.৮৯ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। অর্থাৎ, অতিমারি শুরু হওয়ার পর সম্ভবত এই প্রথম বার ভারতে সামগ্রিক সংক্রমণের হার ৮ শতাংশের নীচে নামল। জুলাইয়ে এই হারটাই ১১ শতাংশের ওপরে ছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী এই হারকে পাঁচ শতাংশের নীচে নামিয়ে আনা গেলেও তবে করোনার ওপরে নিয়ন্ত্রণ আসবে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

রেমডেসিভিরে আদৌ কমেনি কোভিডরোগীদের হাসপাতালবাসের সময়: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন