akhilesh and kiranmoy

ওয়েবডেস্ক: আগামী ২০১৯ সাধারণ নির্বাচনে অ-বিজেপি এবং অ-কংগ্রেসি জোট গড়েই প্রচারে নামতে চাইছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির তরুণ নেতা অখিলেশ যাদব। বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ তীব্র করে তুলতে কংগ্রেসের হাত ধরার সাময়িক প্রচেষ্টা থেকে তিনি আপাতত বিরত থাকছেন বলেই দলীয় সূত্রে খবর।

এর নেপথ্যে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার নেতিবাচক ফলাফলের ভূমিকাও। স্বাভাবিক ভাবেই বিভিন্ন আঞ্চলিক স্তরে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখায় বাড়তি গুরুত্ব দিতে চান তিনি। তবে পশ্চিমবঙ্গে বামেদের তুলনায় তৃণমূল কংগ্রেসকে সঙ্গে নিলে তাঁর এই প্রচেষ্টা অধিক গুরুত্ব পেতে পারে, এমন একটা মতকে তাঁর সামনে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন পশ্চিমবঙ্গের এক প্রাক্তন মন্ত্রী মৎস্যমন্ত্রী। যিনি বর্তমানে সমাজবাদী পার্টির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি এবং সাংসদ।

২০১১-য় পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটার পরই এ রাজ্যে বামফ্রন্টের শরিক সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা কিরণময় নন্দ ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন সিপিএমের সঙ্গে। ঘটনাক্রমে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছোয় যে, তিনি ফ্রন্ট ছেড়ে দেন। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু কোনো একটি কারণে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই নতুন করে সম্পর্ক না গড়ে পাড়ি দেন উত্তরপ্রদেশে। সেখানে সমাজবাদী পার্টির ‘নেতাজি’ মুলায়ম সিংহ যাদবের ছত্রছায়ার রাজনীতি শুরু করেন।

গত  ২০১২-র বিধানসভা এবং ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটেও কিরণময়বাবু সমাজবাদী পার্টির হয়ে নির্বাচনী কাজে যুক্ত ছিলেন উত্তরপ্রদেশেই। কিন্তু মাসখানেক আগেই খবর চাউর হয়ে যায়, স্বয়ং মুলায়ম তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন পত্র মারফত। গত সপ্তাহে  ফের তাঁকে দেখা যায় মুলায়ম-পুত্র অখিলেশ যাদবের সঙ্গে একটি ঘরোয়া বৈঠকে। বৈঠক সেরে বেরিয়ে এসেই তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেন, দল তাঁকে কোনো দিনই বহিষ্কার করেনি। ‘নেতাজি’র স্বাক্ষর নকল করে কেউ তাঁকে চিঠি পাঠিয়েছিল। তিনি সমাজবাদী পার্টির সহ সভাপতি পদে আগের মতোই রয়েছেন।

সম্প্রতি লখনউয়ে সমাজবাদী পার্টির একটি আলোচনাসভায় হাজির ছিলেন অখিলেশ। দলীয় উচ্চ নেতৃত্বের মধ্যে কিরণময়বাবুও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, ওই সভায় আগামী লোকসভা ভোটের সম্ভাব্য নির্বাচনী আঁতাঁত নিয়ে প্রাথমিক কথোপকথন হয়। অখিলেশ সেখানে নেতৃত্বের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো জাতীয় দলের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিবর্তে বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোট গড়লে আক্রমণ আরও জোরালো করে তোলা সম্ভব। ওই সভাতেই কিরণময়বাবু না কি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে বোঝাপড়ার জন্য বাড়তি দায়িত্ব নিয়েছেন। এর প্রাথমিক প্রস্তুতি অবশ্য অখিলেশ নিজেই সেরে ফেলেছেন উত্তরপ্রদেশের পুরভোটের ফলাফল ঘোষণার পর কালীঘাটে মমতার বাড়িতে এসে।

২০১২-তে অখিলেশ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর কিরণময়বাবু সদর্পে ঘোষণাও করেছিলেন, অখিলেশকে মুখ্যমন্ত্রীর তখতে পৌঁছে দেওয়ার নেপথ্যে কারিগর তিনি নিজেই। অখিলেশের সাম্প্রতিক কালীঘাট আগমনের নেপথ্যেও যে তাঁর কারিকুরিই ছিল, সে কথাও যেন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here