ভোপাল : গুজরাতের জৈন কিশোর ১৭ বছরের বর্শিল শাহ। দ্বাদশ শ্রেণীর কমার্সের ছাত্র। পরীক্ষায় ৯৯.৯% নম্বর পেয়েছিল। কিন্তু তার পর কী হল কে জানে? জুন মাসে সন্ন্যাস নিয়ে নিল বর্শিল। তার পর বর্শিলের নাম বদলে হল সুবীর্য রত্ন বিজয়জি মহারাজ। এই খবর সারা দেশকে তোলপাড় করেছিল। সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

এ বার খবরের শিরোনামে মধ্যপ্রদেশের নীমাচের এক জৈন দম্পতি। ৩৫ বছরের সুমিত রাঠৌর আর ৩৪ বছরের অনামিকা রাঠৌর। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সন্ন্যাসী হওয়ার।

তিন বছরের ছোট্টো মেয়ে রয়েছে তাঁদের। রয়েছে ১০০ কোটি টাকার বিশাল সম্পত্তিও। কিন্তু এই সব কিছুর মায়া কাটিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিলেন। সুরাতের সুধামার্গী জৈন আচার্য রামলাল মহারাজের কাছে ২৩ সেপ্টেম্বর দীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

মেয়ের আট মাস বয়স থেকেই তাঁরা আলাদা থাকা শুরু করেছিলেন।

“ওদের সন্ন্যাস নেওয়ার কথাটা মেনে নেওয়া সহজ ছিল না কিন্তু শেষমেশ মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি”, বলেন সুমিতের বাবা রাজেন্দ্র সিংহ রাঠৌর।

সুমিত আর অনামিকার পরিবার এলাকায় খুবই বিখ্যাত। এঁরা রাজনীতি আর ব্যবসায় জড়িত। অনামিকার বাবা অশোক চন্ডালিয়া বলেন, “আমার নাতনিকে আমিই মানুষ করব। তার জন্য কাউকে লাগবে না”। তিনি এক সময় নীমাচ জেলায় বিজেপির সভাপতি ছিলেন। তিনি বলেন, এটা ধর্মীয় ব্যাপার, কেউই বাধা দিতে পারবে না।

২২ আগস্ট আচার্য রামলালের একটা সভায় সুমিত নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তখনই রামলাল সুমিতকে অনামিকার কাছ থেকে অনুমতি নিতে বলেন। সেই সময় অনামিকাও একই ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

সুমিত লন্ডনের একটা কলেজ থেকে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যবসায় ডিপ্লোমা করেছেন। দেশে এসে পারিবারিক ব্যবসা সামলাচ্ছিলেন। অনামিকা অষ্টম শ্রেণীর পরীক্ষায় নীমাচের প্রথম সোনার পদক জয়ী। তিনি বিই করেছেন মোদী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে। বিয়ের আগে হিন্দুস্থান জিঙ্কে কাজও করেছেন। ওঁদের এই সিদ্ধান্তে সকলেই খুবই অবাক হয়েছেন, বলেন সুমিতের ভাই সন্দীপ।

নীমাচের জৈন সম্প্রদায়ের সদস্য প্রকাশ ভাণ্ডারী বলেন, এই ঘটনা অভূতপূর্ব। এমন তরুণ দম্পতি, তিন বছরের মেয়েকে ফেলে রেখে দীক্ষা নিয়ে সন্ন্যাস নেবেন, এমন এর আগে কখনও ঘটেনি। ভাণ্ডারী সাধুমার্গী জৈন সেবক সংঘের সম্পাদকও।

উল্লেখ্য, গোটা দেশে জৈন সম্প্রদায়ের সংখ্যা ৫০ লক্ষেরও কম। এঁরা খুবই কঠোর ভাবে জীবন যাপন করেন। এঁরা নিরামিষাশি। এঁদের একটা শাখা দিগম্বর জৈন সম্প্রদায়। এঁরা এখনও আকাশকে তাঁদের বস্ত্র মনে করেন।

২০১৬ সালের অক্টোবরে ১৩ বছরের জৈন কিশোরী আরাধ্যা সামদ্রিয়া একটা লম্বা সময় ৬৮ দিন উপোষ করে থেকে মারা যায়। ধর্মীয় আচারে তপস্যার অঙ্গ হিসেবে সে দীর্ঘদিন না খেয়েছিল। তার মৃত্যুতে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। কিন্তু জৈন সম্প্রদায়ের বহু প্রবীণ সদস্যরা অবিচলিত থাকেন। তাঁরা আরাধ্যার মা-বাবাকে সমর্থন করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, অযথা এই ঘটনা নিয়ে তাঁদের সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করা হচ্ছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন