আরা (বিহার) : স্ট্রেচারের অভাবে চ্যাংদোলা করে নিয়ে যাওয়া হল মানসিক ভারসাম্যহীন এক মহিলাকে। ঘটনা বিহারের ভোজপুর জেলার আরা সর্দার হাসপাতালে। মহিলার নাম শকুন্তলা দেবী। বয়স ৩২ বছর। তিনি এই হাসপাতালের মেডিক্যাল ওয়ার্ডে ভর্তি। ঘটনার দিন তাঁর স্বামী অনিল শাহ বহির্বিভাগ (ওপিডি) থেকে তাঁকে চ্যাংদোলা করে ওয়ার্ডে নিয়ে যান। অনিলের দাবি, তিনি প্যারামেডিক্যাল স্টাফদের একটা স্ট্রেচার দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু একটাও স্ট্রেচার তিনি পাননি। তাই শেষমেশ অন্য রোগীর মহিলা পরিচারিকা ও হাসপাতাল কর্মীদের সাহায্য নিয়ে স্ত্রীকে চ্যাংদোলা করেই ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে বাধ্য হন। অন্য দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ আস্বীকার করে। তাদের দাবি, শকুন্তলা মানসিক প্রতিবন্ধী। যখন তখন হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। তা ছাড়া স্ট্রেচার চেয়ে কোনো অনুরোধ আসেনি। প্রসঙ্গত, আইএসও অনুমোদিত এটিই জেলার একমাত্র হাসপাতাল।

 

অনিল দাবি করেন, শকুন্তলাকে ইজেকশন দিতে নিয়ে যেতে হয়েছিল ওপিডিতে। কিন্তু হাসপাতালের ডাক্তার সতীশ কুমার সিনহা বলেন, কোনো রোগী ভর্তি থাকলে তাঁকে কেন ওপিডিতে নিয়ে যেতে হবে ইনজেকশনের জন্য। এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।

উল্লেখ্য, স্ট্রেচার নিয়ে এমন ঘটনা এই প্রথম সামনে এলেও এটাই এক মাত্র নয়। গত মাসে কর্নাটকের হুবলি জেলার সরকারি হাসপাতালে চার জন গর্ভবতী মহিলাকে একটি মাত্র স্ট্রেচার করেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এমন কেন করা হয়েছে জানতে চাওয়া হলে ওই হাসপাতালের সুপার জানান, স্ট্রেচারের অভাব আছে, তা নয়। কর্মীদের অক্ষমতা যে তাঁরা ঠিক ভাবে কাজ করতে পারেননি। আরও একটি ঘটনা অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরের সরকারি হাসপাতালে। এখানে এক জন রোগীকে স্ট্রেচার না দিয়ে বাধ্য করা হয় হেঁটে যেতে। কারণ জানতে চাইলে এ ক্ষেত্রেও কর্মীরা নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে নিয়েছিলেন।    

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন