পুর্বা এক্সপ্রেসে যাত্রীর খাবারে মরা টিকটিকি, চুক্তি বাতিল সংশ্লিষ্ট ক্যাটারিং সংস্থার

0
184

নয়াদিল্লি : নানা ভাবে রেলের আয় বাড়ানো আর যাত্রীদের ভালো পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে ভারতীয় রেল। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জঘন্য পরিষেবার বহর। একের পর ঘটনা বার বার রেলের পরিষেবার দিকে আঙুল তুলেছে। বিশেষত বার বারই সামনে আসছে খাবারের ক্ষেত্রে গণ্ডগোলের ঘটনা।

এ বার পুর্বা এক্সপ্রেসের এক জন যাত্রীর খাবারে পাওয়া গেল মরা টিকটিকি।

মঙ্গলবার হাওড়া থেকে দিল্লিগামী এই ট্রেনে মোকামা স্টেশনে রেলের এক জন যাত্রী ভেজ বিরিয়ানির অর্ডার দিয়েছিলেন। খাবার পাওয়ার পর খেতেও শুরু করে দিয়েছিলেন ওই খাবার। দু’ তিন গ্রাস খাওয়ার পর খেয়াল করেন খাবারের মধ্যে রয়েছে একটা মরা টিকটিকি। টিকটিকিটা দেখে তিনি আঁতকে ওঠেন। আর অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন।

 

ঘটনা দেখে সহযাত্রী মেঘনা সিনহা খাবারের ছবি তুলে নেন। ভারতীয় রেলকে তা টুইট করেন। আর একটা আলাদা টুইট করে ঘটনাটা রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর নজরে আনার চেষ্টা করেন। সেই টুইটেও তিনি ছবিটি শেয়ার করেন।

রেলমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দ্রুত এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাড়া দেওয়া হয়। ওই যাত্রীকে পিএনআর নম্বর এবং খাবার অর্ডারের যাবতীয় তথ্য দিতে বলা হয়।

 

মেঘনা পরে আরও একটি টুইটে এ-ও বলেন, প্যান্ট্রি ম্যানেজার দীপক সিনহা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। তিনি ঘটনার যাবতীয় অভিযোগ স্বীকার করেছেন। ফলে সমস্যার দ্রুত সমাধান করা গেছে।

 

সংবাদমাধ্যম এএনআই-এর মারফত জানা গেছে, ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অসুস্থ যাত্রীকে ঠিক সময়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়। দানাপুর ডিভিশনে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। দানাপুর ডিভিশনের ডিআরএম কিশোর কুমার বলেন, বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখা হবে। তার পর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মন্ত্রকের তরফ থেকে টুইট করে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনার একটা কুপ্রভাব পড়ে জনমানসে। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুর্বা এক্সপ্রেসের খাবার সরবরাহকারী সংস্থার চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। আর কে অ্যাসোসিয়েট ছিল এই খাবার সরবরাহের দায়িত্বে। সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৫ মে।

 

রেলমন্ত্রকের একটি টুইটে বলা হয়েছে, গত বছরে এই সংস্থাকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। চলতি বছরে জরিমানা করা হয়েছে সাড়ে সাত লক্ষ টাকা।

প্রসঙ্গত কিছু মাস ধরেই নানা কারণে রেল ক্যান্টিনের খাবারদাবার নিয়ে অভিযোগ আসছিল যাত্রীদের কাছ থেকে। কখনও খাবারে আরশোলা, কখনও বা ইঁদুর পাওয়া যাচ্ছিল, আবার কখনও ছত্রাক-ধরা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছিল। বাদ যাচ্ছিল না প্রথম সারির ট্রেনগুলোও। রেল থার্ড পার্টি অডিটের কথা বলে, যারা রেলের ক্যাটারিং সার্ভিসের যাবতীয় দিকগুলো খুঁটিয়ে দেখে মন্ত্রককে রিপোর্ট জমা করবে। তার পরই কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের পক্ষ থেকে একটা রিপোর্ট পেশ করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়, রেলের যাত্রীদের যে ধরনের খাবার দেওয়া হয়, তার স্বাদ মানুষের খাওয়ার এক্কেবারে অযোগ্য। সিএজি রিপোর্টের পর মন্ত্রক রেলের আটটি সংস্থার চুক্তি বাতিল করেছে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here