লখনউ: শিশুদের ওপর যৌন নিগ্রহের ৮৫%-ই ঘটে পরিচিত মানুষের হাত ধরে। এমনটা জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের ২০০৭ সালের একটি রিপোর্ট থেকে। রিপোর্টটি তৈরি করেছে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, লিঙ্গ, সামাজিক অবস্থা, পারিবারিক শিক্ষার মান বা অর্থনৈতিক অবস্থান কোনো কিছুই যৌন নিগ্রহ ঠেকানোর ক্ষেত্রে শিশুর সুরক্ষা কবচ হয়ে উঠতে পারেনি। যে কোনো সময়ই একটি শিশু নিগৃহীত হতে পারে। প্রতি দু’ জন শিশুর মধ্যে একটি শিশু যৌননিগ্রহের শিকার হয়।

আরও একটি বিষয়, শিশুনিগ্রহের বেশির ভাগটাই হয় ছেলেদের ওপর। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ছেলে বা মেয়ে যেই হোক, তাদের মধ্যে মাত্র ২৫% শিশুই তাদের ওপর হওয়া অত্যাচারের কথা সাহস করে বড়োদের জানাতে পারে। আর এর থেকেও উদ্বেগের কথা এর মধ্যে মাত্র ৩% ঘটনা পুলিশের কাছে জানানো হয়।

রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্য বা পরিবারের খুব পরিচিত মানুষজনই এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাছের মানুষ না হলে এই ধরনের কাজ করা সম্ভবও হবে না। বাইরের মানুষের কাছ থেকে শিশুকে সামলে রাখা সম্ভব। কিন্তু পরিবারের লোক অপরাধী হলে, এমন ক্ষেত্রে তো এই সব মানুষকে চিহ্নিত করা বা তাদের কাছ থেকে শিশুকে সাবধানে রাখা সামলে রাখা খুবই কঠিন ব্যাপার।

শিশুদের যৌনহেনস্থা হওয়া থেকে বাঁচাতে ২০১২ সালে কেন্দ্রীয় সরকার একটি আইন তৈরি করে। যৌন অপরাধের থেকে শিশুসুরক্ষা আইন (প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেনসেস অ্যাক্ট), ২০১২। এই আইনের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে যে কোনো রকমের যৌন অপরাধ-সহ শিশু পর্নোগ্রাফির বিষয়টিও। অপরাধের পরিমাণের বিচারে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে এই আইনে। শাস্তিতে কারাবাস সঙ্গে জরিমানাও হবে। আবার গুরুত্ব অনুযায়ী এই দু’য়েরই পরিমাণ কম বেশি হতে পারে। তা ঠিক করবে আদালত। এই আইনে এই ধরনের মামলার শুনানির জন্য বিশেষ বিচারসভা গঠনের বিষয়েও বলা হয়েছে। পাশাপাশি মামলা এক বছরের মধ্যে শেষ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই আইনে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here