roys declared foreigners
রায় পরিবারকে 'বিদেশি' তকমা। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহাটি: নাগরিকপঞ্জি নবায়ণ প্রক্রিয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি নতুন কথা নয়। এই বিভ্রান্তির জেরে বিভ্রান্ত হয়ে তীব্র মানসিক অশান্তিতে ভুগে মৃতের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এই মৃত্যুমিছিল এখানেই থামবে এমন আশা করা বৃথা। কারণ নাগরিকপঞ্জি নবায়ণ প্রক্রিয়ায় পর্যাপ্ত নথি দাখিল করেও প্রথম ও দ্বিতীয় খসড়া তালিকায় নাম ওঠেনি এমন অভিযোগ প্রচুর।

তাঁদের মধ্যে এক জন ধেমাজি জেলার শিলাপাথারের সন্ন্যাসীবস্তির গৌরাঙ্গ রায়। গৌরাঙ্গবাবুদের হাতে রয়েছে ১৯৩৭ আর ১৯৪২ সালের সরকারি নথি। এর পরও নাগরিকপঞ্জির দু’টি খসড়া তালিকার একটিতেও তাদের নাম ওঠেনি। নাম না ওঠার কারণ হিসাবে নাগরিকপঞ্জির নবায়ণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিদেশি। এ রকম পরিস্থিতির চাপে পড়ে মানসিক অশান্তি আর অস্বস্তিতে ভুগছেন গৌরাঙ্গবাবুর পরিবারের সদস্যরা। এনআরসি কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দরবার করেও কোনো ফল হয়নি।

১৯৩৭ ও ১৯৪২ সালের প্রামাণ্য তথ্য তাঁদের কাছে থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের ‘বিদেশি’ বলে অ্যাখ্যা দেওয়া হল, এনআরসি কর্তৃপক্ষ তাঁদের ‘বিদেশি’ বলতে পারে কি না, এ সব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি। তাই সন্ন্যাসীবস্তির বিখ্যাত রায় পরিবারে এখন অশান্তির আগুন জ্বলছে। দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন বিজেপির রেড্ডি ব্রাদার্সের বাড়িতে হানা, দেওয়ালের চাঙড় সরাতেই লকারের হদিশ!

ধেমাজির শিলাপাথারের সন্ন্যাসীবস্তিতে বহু কাল ধরে বাস করছেন গৌরাঙ্গ রায়, তাঁর বাবা রাখাল রায়। গৌরাঙ্গবাবুর  ঠাকুরদা নিত্যহরি রায়ের নামে ১৯৩৭ সালের একটি মামলার নথি রয়েছে। ওই বছরের ১৯ আগস্ট এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার নথি রয়েছে গৌরাঙ্গবাবুর হাতে। তা ছাড়া ১৯৪২ সালের একটা পাট্টা আছে তাঁর ঠাকুরদাদার নামে। পাট্টার নম্বর ১৪৭। ১৯৬৫ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে রায়বাড়ির সদস্যদের নাম। ১৯৭১ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে গৌরাঙ্গবাবু আর তার পরিবারের সদস্যদের নাম। এর পরও এনআরসি নবায়ণ কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁরা ‘বিদেশি’।

এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন বেঙ্গলি ইউনাইটেড ফোরাম অব অসমের (বুফা) মুখপাত্র অরুণ রায়। তিনি বলেছেন, এত সব প্রামাণ্য নথি হাতে থাকা সত্ত্বেও যদি নাগরিকপঞ্জিতে নাম না ওঠে তা হলে মানুষ হতাশায় ভুগতে বাধ্য। এই ধরনের হতাশা আর তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়ে অনেক প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে। এই মৃত্যু মিছিল আর যেন দীর্ঘ না হয়।

তিনি বলেন, ১৯৩৭ ও ১৯৪২ সালের প্রামাণ্য নথি রয়েছে। রয়েছে ১৯৬৫, ১৯৭১ সালের ভোটার তালিকায় নাম আছে। তা সত্ত্বেও এনএসকে সেন্টারে গৌরাঙ্গবাবুরা বার বার আবেদন করেও নাগরিকপঞ্জির প্রথম আর দ্বিতীয় খসড়া তালিকায় নাম ওঠাতে ব্যর্থ হয়েছেন। উপরন্তু তাঁদের ‘বিদেশ’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। অরুণবাবু জানান, গৌরাঙ্গবাবুরা যাতে ন্যায় পান তার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে ‘বুফা’।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here