নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি : এ বার রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী এক জন পান-দোকানি।

নাম রাজু দাস। বয়স ৩৭ বছর। অসমের বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি জেলার পাঁচগ্রাম স্টেশনের ধারে একটা ছোট্টো পানের দোকানের মালিক। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন রাজু। রাজনৈতিক দলের তাবড় প্রার্থীদের সঙ্গে লড়বেন এই রাজু।

এর আগে ২০১৬ সালে অসম বিধানসভা নির্বাচনে আলগাপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন রাজু। আর ২০১৭-এ ঝাঁপিয়েছেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে।

উল্লেখ্য, অসম তথা উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এক মাত্র প্রার্থী রাজু।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর পাঁচগ্রামে ফিরে একটা সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসাবে ১০০ জন জনপ্রতিনিধির সই লাগে। সেই সই সংগ্রহ করে জামানতের ১৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করে রওনা দেন দিল্লির উদ্দেশে। সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। এই নির্বাচনের ১৪২তম প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পরাজয় অবধারিত জেনেও এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, পাঁচগ্রাম কাগজ কলের সমস্যা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চান তিনি। গত দু’ বছর ধরে এলাকার একমাত্র কাগজ কল হিন্দুস্থান পেপার মিল বন্ধ। এলাকার বেশির ভাগ মানুষই এই মিলে কাজ করেন। মিল বন্ধ বলে তাঁরা কর্মহীন। ঠিকমতো ডাক্তার দেখানো থেকে ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালানো — কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই এলাকাবাসীরা বেশ কয়েক বার আন্দোলন করেছেন। মিল চালু করার দাবি নিয়ে দিল্লি পর্যন্ত গেছেন তাঁরা। এমনকি শেষ নির্বাচনের সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যে এসেছিলেন। তিনিও এলাকাবাসীকে আশ্বাস দিয়েছিলেন দল ক্ষমতায় এলে মিল চালু হয়ে যাবে। কিন্তু তাতেও কোনো ফল হয়নি। তাই তিনি বাধ্য হয়েই একটা অভিনব উপায়ে সরকার আর দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। অবশেষে এই পথ বেছে নেন। এর ফলে বিভিন্ন মহলকে তিনি আকৃষ্ট করতে পারবেন বলে মনে করেন।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন