ওয়েবডেস্ক: নারীশক্তির জয়গান নিত্য অনুভূত হত ওড়িশার কেন্দ্রাপড়ার পঞ্চবারাহী মন্দিরে। শতভয় গ্রামের এই শাক্ত মন্দির যেমন দেবী বারাহীর পাঁচটি রূপের উপাসনার জন্য উৎসর্গীকৃত, তেমনই পূজারিনিরাও সৈকতবর্তী গ্রামের দলিত নারী। মৎস্যোপজীবী নারীদের দ্বারাই বিগত ৪০০ বছর ধরে সম্পাদিত হয়েছে মন্দিরের যাবতীয় কাজ। পুরুষরা দেবীর বরাভয় থেকে বঞ্চিত হতেন না ঠিকই, তবে মন্দিরে তাঁদের প্রবেশাধিকার ছিল না।

সেই ঐতিহ্য ২০১৮ সালে এসে একটা বড়োসড়ো ধাক্কা খেল। সমুদ্রের দৌরাত্ম্যে তিতিবিরক্ত হয়ে পঞ্চবারাহী মন্দিরের পূজারিনিরা অবশেষে মন্দিরে পুরুষদের প্রবেশাধিকার দিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে চলতি বছরের চলতি মাসের ২০ তারিখে।

varahi

জানা গিয়েছে, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রের জলস্তর যেমন যেমন বেড়ে চলেছে, তেমনই সঙ্কটের মাত্রা বেড়ে চলেছে শতভয় গ্রামের কপালে। জেলার নথিপত্র বলছে, ১৯৩০ সালেও শতভয় গ্রামের অস্তিত্ব ছিল ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার। যা বর্তমানে এসে ঠেকেছে মাত্র ১৪০ বর্গ কিলোমিটারে।

সঙ্গে রয়েছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো আতঙ্কের বিষয়টিও। যার পরিণামে সমুদ্র যখন উত্তাল হয়ে ওঠে, তখন নাম সার্থক করে গ্রাম যেন আক্ষরিক দিক থেকেই শত ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়!

তাই বিশ্ব ব্যাঙ্কের সহায়তায় ওড়িশা স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি যে ওড়িশা ডিজাস্টার রিকভারি প্রোজেক্ট শুরু করেছে, তার আওতায় পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করেছে শতভয় গ্রামের হাজার খানেক বাসিন্দাদের। এখন যে জায়গায় গ্রাম এবং তার মন্দির অবস্থিত, সেখান থেকে ১২ কিলোমিটার ভিতরে বগাপাটিয়ায় নতুন করে তৈরি হয়েছে বাসস্থান, তৈরি হয়েছে পঞ্চবারাহীর নতুন মন্দিরও। বাসিন্দারা নিজেদের তৈজসাদি নিয়ে চলে গিয়েছেন নতুন গ্রামে, বাকি ছিল কেবল দেবীদলের যাত্রা।

varahi

আর সেখানেই দেখা দিল সমস্যা! প্রায় দেড় টন ওজনের কালো পাথরের একেকটি দেবীমূর্তি পূজারিনিরা তো বহন করতে পারছেন না! প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে দৈহিক সামর্থ্য। তাই বাধ্য হয়েই ৪০০ বছরের ঐতিহ্য ভাঙতে হল পূজারিনিদের। মন্দিরে প্রবেশ করতে দিতে হল পাঁচ জন পুরুষকে, যাঁরা পাঁচটি দেবীমূর্তি বহন করে নিয়ে যাবেন নতুন মন্দিরে।

জানা গিয়েছে, নতুন মন্দিরে মূর্তি স্থাপনার পর তা শাস্ত্রমতে পরিশুদ্ধ করেছেন পূজারিনিরা। নতুন করে শুরু হয়েছে নিত্যপূজা, পুরোনো নিয়ম অক্ষুণ্ণ রেখেই!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here