aadhaar-2

ওয়েবডেস্ক: ২০০৯ সাল থেকে বহু আলোচিত আধার তথ্যের সুরক্ষা ফের একবার প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা ইউআইডিএআই কর্তৃপক্ষকে। মঙ্গলবার জানা গিয়েছে, আধার নম্বর তৈরি করতে যে প্যাচ ব্যবহৃত হয় তা জাল করা সম্ভব। গত ২০১৭ সালের প্রথম দিক থেকেই এই জাল সফটওয়্যার বাজারে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

এ দিন হাফিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এমনই একটি প্যাচ তাদের হাতে এসেছে। যেটির সাহায্যে প্রয়োজনীয় যাবতীয় অনুষঙ্গের অভাব থাকলেও সহজেই আধার নম্বর তৈরি করে ফেলা যায়। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইউআইডিএআই কর্তৃপক্ষের তরফে আধার কার্ড প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলিকে ওই প্যাচ দেওয়া হয়। যে প্যাচের মধ্যে চোখের মণি, হাতের ১০টি আঙুলের ছাপের ইত্যাদি গোপনীয় তথ্যগুলি রাখা হয়। এ ভাবেই নতুন আধার নম্বর তৈরি হয়ে থাকে। কিন্তু ওই প্যাচ ব্যতিরেকেও যে নতুন আধার নম্বর তৈরি করা সম্ভব, তা জোরালো ভাবে দাবি করেছে ওই সংবাদ মাধ্যমটি।

জানা গিয়েছে, এ ভাবেই তৈরি হয় চলেছে বেআইনি আধার কার্ড। যার জন্য বাড়তি খরচের পরিমাণ মাত্র আড়াই হাজার টাকা। অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকলেও ওই জাল সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি করা সম্ভব নতুন আধার কার্ড। মনে করা হচ্ছে, এই জাল সফটওয়্যারের উৎস ২০১০ সালে আধার কার্ড তৈরিতে বেসরকারি সংস্থাগুলির অন্তর্ভুক্তি। ওই সময়  আধার তৈরির দায়িত্ব দেওয়ার সময় বেসরকারি সংস্থাগুলির জন্য এনরোলমেন্ট ক্লায়েন্ট মাল্টি প্ল্যাটফর্ম নামে এই সফটওয়্যারটি প্রকাশ করে ইউআইডিএআই। আধার নম্বর তৈরির জন্য ব্যবহৃত প্রতিটি  কম্পিউটারে ইন্সটল করতে হতো এই সফটওয়্যার। ক্লাউড বেসড ইন্সটলেশনের বদলে সফটওয়্যারটি ইন্সটলেশনের জন্য একটি ইন্সটলেশন প্যাকেজ বিলি করে ইউআইডিএআই। যা পরবর্তী কালে হ্যাকারদের হাতিয়ারে পরিণত হয়। সফটওয়্যার প্যাকেজে রদবদল ঘটিয়ে তারা তৈরি করে ফেলে একাধিক কোড।


আরও পড়ুন: পেট্রোল-ডিজেলের দাম লিটার প্রতি কমতে পারে ১৫-১৮ টাকা! কী ভাবে?

একই ভাবে ওই জাল সফটওয়্যারের জিপিএস ফিচারও বিকল করে দেওয়া সম্ভব। যার ফলে পৃথিবীর ঠিক কোন প্রান্তে বসে আধার কার্ড তৈরির কাজ চলছে, তা সহজেই এড়ানো যায়। জিপিএস ফিচারের মাধ্যমেই ইউআইডিএআই কর্তৃপক্ষ নজরদারি চালাতে পারেন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন